জাহিদুল ইসলাম

২৩ জুন, ২০২১ ০১:২০

মুক্তিযোদ্ধা প্রবাসে, তবু ভাতা তুলছেন জাপা নেতা

অভিযুক্ত ইশরাকুল হোসেন শামীম

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার তেলিরাই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতাকুল হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। অভিযুক্ত ইশরাকুল হোসেন শামীম মুক্তিযোদ্ধা ইশতাকুল হোসেনেরই ভাই। তিনি জাতীয় পার্টির নেতা।

ইফতাফুল হোসেনের অভিযোগ, প্রায় ৭ বছর ধরে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় দশ লাখ টাকার অধিক আত্মসাৎ করেছেন শামীম।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতাকুল হোসেন নব্বইয়ের দশকে দেশ ছেড়ে সপরিবারে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে। সেখান থেকে ২০১০ সালে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন। সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন ২০১৩ সালে।

ইশতাকুল জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের সরকার কর্তৃক ভাতা প্রদানের খবর শুনে একাধিক আত্মীয় দ্বারা খবর নেবার চেষ্টা করেন। তবে কেউই তাকে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি।

সরেজমিন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানা যায়, ইশতাকুল নামে ভাতা বরাদ্দ রয়েছে এবং তার নামেই টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইশতাকুলের নামে ভাতা বরাদ্দ হলেও তার অজ্ঞাতেই ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করে সে টাকা উত্তোলন করছেন তারই সহোদর জাপা নেতা ইশরাক হোসেন শামীম। মুক্তিযোদ্ধা ভাতার জন্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে যোগাযোগের জন্য দেয়া হয়েছে শামীমের মোবাইল নাম্বার।

সেই নাম্বারে যোগাযোগ করলে জাপা নেতা ইশরাক হোসেন শামীম স্বীকার করেন ভাতার টাকা তিনিই তুলছেন। তবে প্রতারণার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার ভাই বিদেশ থেকে আমাকে পাওয়ার অব এটর্নি দিয়েছেন, সেজন্যই আমি এই টাকা তুলছি। তবে পাওয়ার অব এটর্নির কাগজ দেখতে চাইলে তিনি পরে দেখাবেন বলে ফোন কেটে দেন।

মুক্তিযোদ্ধা ইশতাকুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি গত ৮ বছরের মধ্যে দেশে যাইনি। আর তাকে কোনো পাওয়ার অব এটর্নি দেবার প্রশ্নই ওঠে না। সে তার প্রভাব খাটিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি এই কথা জানার পরপরই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছি। আমি এই প্রতারণার শাস্তি দাবী করছি।

সিলেটের আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান দেবব্রত চৌধুরী লিটন বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার টাকা এভাবে আত্মসাৎ করা চরম অন্যায়। সমাজসেবা কার্যালয়ের উচিৎ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস না দেখাতে পারে।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে, অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। তবে এর বেশি তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

একই বিষয়ে জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ বলেন, আমি এখনো এই অভিযোগ সম্পর্কে অবগত নই। তবে অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।

তিনি বলেন, সমাজসেবা কার্যালয় মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ যত্নশীল। তবে অনেক সময় আত্মীয় স্বজনরা এমন কাগজপত্র দাখিল করেন যা যাচাই করা সম্ভব হয় না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত