জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ:

২৫ জুন, ২০২১ ১৩:৩৫

গোলাপগঞ্জে ১০০ মিটার কর্দমাক্ত রাস্তায় ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ফকিরটুল জায়গীরদার বাড়ি থেকে পূর্বভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত একশত মিটার রাস্তার বেহাল দশা। ছবিটি সম্প্রতি তোলা।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরটুল জায়গীরদার বাড়ি থেকে পূর্বভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত গ্রামীণ ১০০ মিটার কাঁচা রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে গেছে। রাস্তাটি বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় ১২ গ্রামের মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গ্রামবাসীদের এই দুর্ভোগ চলছে কয়েক যুগ ধরে।  

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফকিরটুল জায়গীরদার বাড়ি থেকে পূর্বভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় রাস্তা দিয়ে পূর্বভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব ফকিরটুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভাদেশ্বর হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে লোকজন যাতায়াত করেন। এছাড়া ফকিরটুল, নোয়াই, ফুলসাইন্দ, করগ্রাম, ফতেহখানি, মাইজভাগ, কলাশহরসহ প্রায় ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়া-আসা করেন। রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও দুর্ভোগ লাগবে জনপ্রতিনিধিদের কোনো উদ্যোগ নেই।
    
সরেজমিনে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে। তারা বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় বর্ষা মৌসুমে। অল্প বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি উঠে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়। ছোট ছোট শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুবই আতঙ্কে থাকতে হয়। অভিবাবকদের হাঁটু পানি মাড়িয়ে কাঁধে নিয়ে স্কুলে পৌঁছে দিতে ও আনতে হয়। বেশি কষ্টে পড়তে হয় রোগী ও লাশ নিয়ে যেতে। দীর্ঘদিন থেকে এই রাস্তা পাকাকরণে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার ধরনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।’

রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য এলাকাবাসী সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট একটি আবেদন করেছেন।    
      
ভাদেশ্বর পূর্বভাগ ফকিরটুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেদ আহমদ রউফ বলেন, ‘রাস্তাটির বেহাল দশার জন্য মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।’

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে আমার বাবা মারা যান। বাবার লাশ খুব কষ্ট করে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটু পানি মাড়িয়ে কবরস্থানে নিতে হয়েছে। রাস্তার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনেক আবেদন করলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় এলাকার লোকজনদের সহায়তায় কিছু মাটি ভরাটের কাজ করছি।’
    
ময়নুল হক নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা  বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় হাঁটু পানি হয়ে যায়। রাস্তার কোনো অস্তিত্ব থাকেনা। কাদা আর পানি মাড়িয়ে এলাকাবাসীকে চলতে হয়। রাস্তা পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।’
 
করগ্রাওয়ের বয়োজ্যেষ্ঠ আফতাব আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের কোনো বিকল্প রাস্তা না থাকায় এ রাস্তা দিয়ে আমদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ রাস্তা যেন আমাদের অভিশাপ। উপজেলার অন্যান্য রাস্তার কাজ হলেও এ রাস্তার কোনো উন্নয়ন হয় না।’

এ ব্যাপারে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তাটি আগে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। একটি বেসরকারি হাসপাতাল হওয়ার পর থেকে অনেক লোকজন এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসা করছেন। রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে ইতিমধ্যে যেসব স্থানে পানি জমে যায় সেসব স্থানে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামীতে রাস্তাটি পাকাকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানান, এই রাস্তার বিষয়ে অবগত নই। এটা সম্ভবত এলজিডির আওতাধীন রাস্তা নয়। তবুও খোঁজ নিয়ে দেখবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত