জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর

২৬ জুন, ২০২১ ১৩:২২

তাহিরপুরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও ঘর পায়নি গৃহহীনরা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্মাণ হয়নি গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর। এ ঘটনায় সুবিধাভোগীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এদিকে নষ্ট হচ্ছে আংশিক তৈরি করা ঘরের মালামাল। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে দীর্ঘদিনেও এসব ঘরের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

ঘর গুলো হল, বাদাঘাট ইউনিয়নে রাজারগাঁও ইকর আটিয়া গ্রামের মহামায়া দাস (৬৪) ও বিন্নাকুলি গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. রুহুল আমিন এবং একেই ইউনিয়নের লাউড়েরগড় গ্রামের আরব আলী ছেলে বাদশা আলম ও তারা মিয়ার ছেলে সাবুল মিয়ার ঘর।

এ প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে ৩০টি ঘরের কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এ ইউনিয়নের দুটি ঘরের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ৪২০ বর্গফুট আয়তনের প্রতিটি ঘর গুলোতে দুটি বেড রুম,একটি টয়লেট ও একটি রান্নাঘর থাকার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ -১৯ অর্থ বছরে তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর সদর বাদাঘাট, শ্রীপুর উত্তর, শ্রীপুর দক্ষিণ, বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণ, বালিজুরিসহ ৭টি ইউনিয়নের ৩০ টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর বরাদ্দ দেয় সরকার। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। এসব ঘরের মধ্যে ২৮ টি ঘরের কাজ শেষ হলেও বাদাঘাট ইউনিয়নে ৪টি ঘরের কাজ ১৮ মাসেও শেষ হয়নি।

বিন্নাকুলি গ্রামের রুহুল আমিন বলেন, গেল বছর শ্রাবণ মাসে ঘর তৈরি কাজ শুরু হয়েছিলো। ঘরের ইটের গাঁথনির কাজ শেষে কাঠের ফ্রেম লাগানো হলেও চালে এখনো টিন ওঠেনি, দরজা, জানালা, আস্তর রান্নাঘর টয়লেটসহ সব কাজ বাকী আছে। এখন বৃষ্টিতে ভিজে ঘরের কাঠ নষ্ট হচ্ছে। এদিকে সরকার ঘর দিলেও ভালো করে বসবাস করার জন্য। কিন্তু এখনো ঘরের কাজ শেষ না হওয়ায় পরিবারের সবাইকে গাদাগাদি করে কষ্ট করে অন্য একটি ঘরে থাকতে হচ্ছে। কবে ঘরের কাজ শেষ হবে তাও জানি না।

ইকরহাটি গ্রামের মহামায়া দাস বলেন, অনেক তাগদা দেয়ার পর ঘরের চালে টিন উঠলেও অন্যান্য সব কাজ বাকী আছে। কবে বাকী কাজ শেষ হবে আর কবে নতুন ঘরে যাবো তা জানি না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বারবার বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি তারপরও ঘরের কাজ শেষ হচ্ছে না।

বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঠিকাদারের অবহেলার জন্য ঘরের কাজ শেষ করতে নানান কারণে বিলম্ব হয়েছে। তবে খুব দ্রুতই ঘরের কাজ শেষ করে দেয়া হবে।

তাহিরপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণের প্রকল্প স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বাস্তবায়ন করে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ঘর দু'টির কাজ দ্রুত শেষ করা আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এখনো তাকে পুরো বিলের টাকা দেইনি। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই তাকে চূড়ান্ত বিলের টাকা দেয়া হবে। এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত