২৯ জুন, ২০২১ ১৯:৩৮
সিলেটের ওসমানীনগরে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিবেচনা করে জায়গা নির্ধারণ করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বিধিমোতাবেক সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সকল ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান ও ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিবেচনা করার কথা থাকলেও তা আমলে নিচ্ছেন না ইউএনও। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্টজনদের অগোচরে একটি বাণিজ্যিক হাউজিং এস্টেটের ৩শ শতক ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছেন তিনি।
উপজেলার অনেকটা জনমানবশূন্য স্থানে একমাত্র সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তাহমিনা আক্তার।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও’র এমন স্বেচ্ছাচারিতার কথা তুলে ধরেন ওসমানীনগর নাগরিক অধিকার সুরক্ষা পরিষদ নেতৃবৃন্দ। এসময় তারা যোগাযোগ ব্যবস্থা বিবেচনা করে উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আতাউর রহমান। এসময় পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলার ৫ টি মৌজার ৯টি স্থানে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবিত মৌজাগুলোর মধ্যে পূর্বমোল্লাপাড়া ও দশহাল এলাকার ৪টি স্থানে এই সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের যৌক্তিকতা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আতাউর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে দেশের সকল উপজেলায় একটি করে ৩২৯ টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে ১০০টি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কাজ বিভিন্ন ধাপে চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওসমানীনগরে একটি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের জন্য ৩০০ শতক ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইউএনও তাহমিনা আক্তারকে নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইউএনও সরকারি নির্দেশনা না মেনে ও উপকারভোগীর কথা বিবেচনা না করে প্রভাবশালী চক্রের ইন্ধনে একটি বাণিজ্যিক হাউজিং এস্টেটের ৩০০ শতক ভূমি নির্বাচন করে অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন।
শিক্ষামন্ত্রণালয় স্থানীয় সাংসদের ডিও লেটার চাইলে সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান ডিও লেটার প্রদানে অসম্মতি প্রকাশ করেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ইউএনওর দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সাংসদ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উপজেলার শংকর পাশা মৌজার স্থান উল্লেখ করে ডিও লেটার দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আতাউর রহমান বলেন, স্থানীয় সাংসদ একজন সজ্জন ব্যক্তি। কিন্তু প্রতিষ্ঠান স্থাপনে তিনিও যে জায়গা নির্ধারণের কথা বলেছেন তা জনমানবশূন্য ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা। উপজেলার ৮ ইউনিয়নের সাথে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সাংসদ মোকাব্বিরের এই সিদ্ধান্ত জনবান্ধব ও সুদূর প্রসারী নয়।
আতাউর রহমান আরও বলেন, এরই প্রেক্ষিতে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদনে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনে উপজেলার ৫টি মৌজার ৯টি স্থান প্রস্তাব করেছি। প্রস্তাবিত স্থানগুলো হলো, পূর্বমোল্লাপাড়া মৌজার ৩টি স্থান, ইসলামপুর মৌজার ১টি, দুলিয়ারবন্দ মৌজার ৩টি, রবিদাশ মৌজার ১টি, দশহাল মৌজা ১টি। এসব স্থানের মধ্যে পূবমোল্লাপাড়া ও দশহাল মৌজায় নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলে উপকারভোগীদের জন্য ভালো হবে। এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বেশ ভালো। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আতাউর রহমান বলেন, ইউএনও যে জায়গা নির্ধারণ করেছেন সে স্থানের ভূমির সরকারি মূল্য শতক প্রতি ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। অথচ আমরা যেসব জায়গা প্রস্তাব করেছি তাদের মধ্যে দশহাল মৌজায় ভূমির সরকারি শতক মূল্য ২৮ হাজার টাকা রয়েছে। বাকি মৌজাতেও ভূমির দাম তুলনামূলক কম। এছাড়া এসব এলাকায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলে দুইজন ব্যক্তি দুই মৌজায় ২৭০ শতক ভূমি বিনামূল্যে দান করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরও কেন অতিরিক্ত দাম দিয়ে ভূমি ক্রয় করছেন ইউএনও তা আমাদের জানা নেই।
আতাউর আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি উপজেলার গ্রামতলা মৌজার ভূমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এজন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়া সত্ত্বেও এই স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে উপজেলার সকল ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ করে দিতে মধ্যবর্তী ও ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিবেচনা করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ওসমানীনগর নাগরিক অধিকার সুরক্ষা পরিষদের সিনিয়র আহবায়ক জহুর আহমদ, কমরেড আফরোজ আলী, তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম ইমরান রব্বানী, ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আবদাল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আনা মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি চঞ্চল পাল, তাজপুর কলেজের সাবেক ভিপি ফয়ছল হোসেন সুমন, প্রবাসী বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, দয়ামীর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ নুনু, সমাজসেবী আব্দুশ শহীদ, সায়ীদ আহমদ বজলুল প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য