তাহিরপুর প্রতিনিধি

৩০ জুন, ২০২১ ১৫:২৩

ভারী বৃষ্টি ও ঢল: দুর্ভোগে অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ

সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামায় জেলার নদ-নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে। এতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে হাটবাজার-রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে দিনভর বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হওয়ায় সৃষ্ট ঢেউয়ে ভাঙ্গছে হাওর পারের শতাধিক গ্রাম। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে গ্রামের বাসিন্দারা। এদিকে দিনভর এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে আরও পানি বাড়বে বলে ধারনা সংশ্লিষ্টদের।

জানা যায়, তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়ক, তাহিরপুর বাদাঘাট সড়ক, উপজেলার আভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আনোয়ারপুর, বালিজুরী, সুলেমানপুর, লামাগাঁও, কাউকান্দি, শ্রীপুর বাজার সহ একাধিক হাট বাজার পানিতে নিমজ্জিত। হাওরপারের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে লোকজন যোগাযোগ করছেন নৌকায়। হাওর পাড়ের গ্রামের মানুষজন ঢেউয়ের কবল থেকে ঘরবাড়ি রক্ষায় বাঁশ বন দিয়ে কোন রকম তাদের ঘরবাড়ি বেঁধে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

রতনশ্রী গ্রামে সোহাগ মিয়া জানান, আনোয়ারপুর ব্রিজের পূর্ব পাশে ও শক্তিয়ারখলা বাজারে পূর্ব পাশে সড়কের উপর দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্থান দুটো নৌকা যোগে খুব কষ্ট করে পারাপার হয়েছি। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকা মানুষ জন খুবেই কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে।

পাথর ব্যবসায়ী ও পাথর মিল মালিক বালিজুরী গ্রামের মাহমুদ আলী জানান,পাহাড়ি ঢলের পানি তাদের পাথর ডাম্পের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ও বৃষ্টির কারণে শ্রমিকরাও কাজে আসতে পারছে না ফলে তাদের কাজ একেবারেই বন্ধ রয়েছে।

সূর্যেরগাও গ্রামের লাল মিয়া জানান,আমি হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি এখন হাওরে মাছও নেই। বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হচ্ছে তাই ঘরেই আছি। আর যে হারে পানি বাড়ছে তাতে আমার মাটির ঘর পানিতে তলিয়ে যাবে। গরু বাছুর আর পরিবার পরিজন নিয়ে মহাবিপদে পরব।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দৌলা বলেন, তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন জায়গা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহর থেকে বীজ সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। ফলে বীজ বিতরণ কার্যক্রম পিছিয়ে পড়ছে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা উৎপল রায় জানান, উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়ছে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রাণি সম্পদ রক্ষার জন্য খোঁজ খবর রাখছি পাশাপাশি খামারী ও ব্যবসায়ীদের বন্যা করনীয় বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হান কবির জানান, পাহাড়ি ঢলের পানি যাদুকাটা নদী দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন নদী দিয়ে প্রবেশ করায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া নিয়মিত বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিচ্ছি। আমরা আজ থেকেই নিন্মাঞ্চলের গ্রামের অসহায় দিনমজুর পরিবার গুলোকে সহায়তা করব।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত