নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৫

‘কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার কারণে’ সিলেটে কমেছে পাসের হার: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

এবারের এইসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সিলেটে পাসের হার সবচেয়ে কম। সিলেটের এই ফলফল বিপর্যয় নিয়ে চলছে নানামূখী আলোচনা। তবে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কারণেই এবার পাসের হার কমেছে।

সোমবার সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ এম্মলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করেছে ৫৮.৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। যা গত ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

সিলেটে পাসের হার কমা প্রসঙ্গে ফলাফল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, এবার মন্ত্রণালয়ের অর্ডার ছিলো, প্রতিটা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানোর। সে অনুযায়ী সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ফলে এবার শিক্ষার্থীরা ক্লিন ও ক্লিয়ার পরীক্ষা দিয়েছে। আমার মনে হয়, সেই মোতাবেক ফলাফল আসছে।

তাহলে বিগত বছরগুলোর পরীক্ষা কী সঠিক হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এরকম কিছু বলতে চাই না। তবে আমার অবজারভেশন, বাচ্চারা যতটুকু পড়েছে সেই অনুযায়ী ফলাফল এসেছে। আমাদের মূল্যায়নে কোন বৈষম্য হয়নি।

তিনি বলেন, এবার ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে অধিক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল। তারাই বেশি ফেল করেছে।

সিলেট বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২২ সালে সিলেটে পাসের হার ছিলো ৭৮.৮২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৬.০৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৩.০৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৬৮.৫৭ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৫৮.৩৩ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছর ধরে সিলেটে ধারাবাহিকভাবে কমছে পাসের হার।

পাসের হার কমা প্রসঙ্গে ফলাফল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, এবার মন্ত্রণালয়ের অর্ডার ছিলো, প্রতিটা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানোর। এবার শিক্ষার্থীরা ক্লিন ও ক্লিয়ার পরীক্ষা দিয়েছে। আমার মনে হয়, সেই মোতাবেক ফলাফল আসছে।

তাহলে বিগত বছরগুলোর পরীক্ষা কী সঠিক হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এরকম কিছু বলতে চাই না। তবে আমার অবজারভেশন, বাচ্চারা যতটুকু পড়েছে সেই অনুযায়ী ফলাফল এসেছে। আমাদের মূল্যায়নে কোন বৈষম্য হয়নি।

তিনি বলেন, এবার ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে অধিক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল। তারাই বেশি ফেল করেছে।

সারাদেশের মধ্যেও পাসের হারে পেছনের দিকে অবস্থান সিলেটের। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

তবে পাসের হার কমলেও এবার সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২টি। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪জন। আর ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৭ হাজার ৫৬৫ জন, ২০২৩ সালে ৫ হাজর ৪৫২ জন, ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৪৭১ জন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। জিপিএ-৫ ও পাশের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা।

সিলেটে এবার ৯ প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। যা গত বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৭৯৮ জন কম। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন এবং ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে, পাশের হারে এগিয়ে সুনামগঞ্জ ও জিপিএ-৫ এ মৌলভীবাজার।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সিলেট জেলায়। এ জেলায় পরীক্ষার্থী ৩৫ হাজার ৩৩১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১৪ হাজার ৩২১ জন এবং ছাত্রী ২১ হাজার ১০ জন। জেলার ৩৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ৯৪টি।

মৌলভীবাজারে পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ হাজার ৯১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৬৩১ জন ও ছাত্রী ১২ হাজার ২৮২ জন। জেলার ১৯৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।

সুনামগঞ্জে পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ হাজার ৩৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৫১৫ জন এবং ছাত্রী ১০ হাজার ৮৬৮ জন। জেলার ২৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ৪৫টি।

হবিগঞ্জে পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ হাজার ৭৯৪ জন। এরমধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৬৩ জন এবং ছাত্রী ৯ হাজার ৭৩১ জন। জেলার ১৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।

এবার পানের হারে এগিয়ে মেয়েরা। মেয়েরা ৫৬.৭৮ শতাংশ ও ছেলেরা ৫৬.১২ শতাংশ পাস করেছে।

এছাড়া বিভাগভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০.৩২% , জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,৬০৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৬৪.০৩%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮ জন এবং মানবিকে পাসের হার ৪৮.১৬%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০ জন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত