৩০ জুন, ২০২১ ১৮:৩৩
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীতে স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাইসহ গত দুদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তারা হল,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের মিয়ারচর গ্রামের সবজি বিক্রেতা মোস্তফা মিয়ার দু-ছেলে মেরাজুল ইসলাম (১০) ও খাইরুল ইসলাম(৬)।
নিখোঁজ শিশুর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের মিয়ারচর গ্রামের বাজারে প্রতিদিনের মত সবজি বিক্রি করছিল মস্তোফা মিয়ার। বিকাল ৫টার দিকে মস্তোফা মিয়ার ছোট ছেলে খাইরুল ইসলাম (৬) বাজার সংলগ্ন যাদুকাটা নদীর পশ্চিম দিকে ঘাটে বাদা নৌকায় উঠেছে দেখে বড় ছেলে মেরাজুল ইসলাম তার বাবাকে জানায়। তখন খাইরুলকে নিয়ে আসতে বলে পিতা মস্তোফা মিয়া। পিতার কথা মত নদীতে গেলেও আর তারা ফিরে আসেনি। তাদের আসতে দেরি দেখে নদীতে গিয়ে আর কাউকেই খোঁজে পায়নি। আর কেউই দুশিশুর বিষয়ে বলতেও পারছেন না।
পরে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে অবগত করলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর থেকে বিশ্বম্ভরপুর ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরী দল নিউটন দাসের নেতৃত্বে শিশুদের উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
নিখোঁজ শিশুদের পিতা মোস্তফা মিয়া বলেন, কালকে(গতকাল) নদীতে গোলার পানিতে নদী একবারে ভরা ছিল। দোকানে এসময় বেচা বিক্রি বেশি ছিল। এসম ছোট পুলা(ছেলে)নৌকায় উইঠা পানি দেখতাছে বড় পুলা আইয়া বলে। পরে বড় পুলারে আবারও পাঠাই ছোট পুলারে আনতে। কিছুক্ষন যাওয়ার পর মেরাজুল ও খাইরুল দুজনেই আর ফিরে না আসায় তাদের খোঁজতে নদীর পাড়ে যাই। নদীর পাড়ে গিয়ে মেরাজুল ও খাইরুলকে দেখতে না পেয়ে বাড়ি ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখোজি করে না পেয়ে বিষয়টি বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে জানাই। মনে হয় আমার দুই পুলাই(ছেলেই) পানিতে পইরা(পড়ে) গেছে।
বুধবার (৩০ জুন) সকাল থেকে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল যাদুকাটা নদীর মিয়ারচড় তাদের উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
দুটি শিশু নিখোঁজর সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচাজ মো. ইকবাল হোসেন জানান,যাদুকাটা নদীতে প্রবল স্্েরাতের মধ্যে খাইরুল ইসলাম (৬)ভেসে যাওয়ার সময় বড় ভাই মেরাজুল থাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সেও স্রোতের টানে ভেশে যায়। খবর পেয়েই আমরা সেখানে যাই। এখনও আমার দুটি শিশু উদ্ধারের চেষ্টা করছি।
এব্যপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, বিষয়টি জানানোর পর আমি সকালেই থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল নিয়ে ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছি। পরিবারের ভাষ্য মতে দুই শিশুই নদীর পানিতে পাড়ে নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগীতায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মন্তব্য