২০ নভেম্বর, ২০১৫ ১৩:৪৬
গত ১১ নভেম্বর বুধবার বিজিবি ও বণ্যপ্রানী বিভাগ মিলে শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়ন থেকে বিপুল পরিমান কাঠ আটক করে। সেখানে ছিল রেঞ্জ কর্মকর্তার সরকারি মার্কা বা হেমার। তখন বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার ফিরোজ আলম চৌধুরী বলেছিলেন, আমরা সঠিক বলে মার্কা দিয়েছি।
এখন কেঁচো খড়তে সাপ বেরিয়ে আসার অবস্থা।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে গত ১৬ নভেম্বর সকালে সরজমিনে ঘটনার উৎপত্তিস্থল শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের হোসেনাবাদ চা বাগান সংলগ্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় তদন্তে যান রেঞ্জ অফিসার ফিরোজ আলম চৌধুরীসহ বন কর্মকর্তারা। আবেদনে ছিল ১৯৫টি গাছ কর্তনের অনুমতি। প্রত্যেকটি গাছের গোড়া গিয়ে দেখা হয়। পাওয়া যায় ১২০ টি গাছের গোড়া। আবেদনে গাছের প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ ছিল আকাশমনি, রঙ্গী, বেরেঙ্গা, লালী, অডিট কড়ই ও শিরিশ। গাছের গোড়ায় আর কর্তনকৃত গাছের সাথে মিল পাওয়া যায়নি। ফলে বন বিভাগ ও বিজিবি দ্বারা সেই গাছগুলো আটক করে।
আটককৃত গাছগুলোতেও রেঞ্জ কর্মকর্তার মার্কা বা হেমার দেওয়া ছিল।বিজিবির দ্বারা আটককৃত গাছগুলো হলো চাম ৯টি, আকাশমনি ২৫টি, কড়ই ৬টি, শিরিশ ২টি, রঙ্গী ১৫টি, বলস ১টি, মেহগনি ২টি, জাম ৪টি ও ডিচামস ১টি সহ মোট ১৭২.৪৫ ঘনফুটের ৬৫ পিস কাঠ।
এরমধ্যে আকাশমনি, শিরিশ, রঙ্গী আবেদনের সাথে গাছের হিসেব মিল না থাকায় গাছগুলো আটক করা হয়। সেগুলোতেও রেঞ্জ কর্মকর্তার সরকারী হেমার বা মার্কা দেওয়া রয়েছে।
এসময় বন বিভাগের দ্বারা আটককৃত গাছগুলো হলো আকাশমনি ৯১ টি, কড়ই ১২ টি, জাম ৩ টি, রঙ্গী ৭ টি এবং নিম ৪ টিসহ ১১৭ পিসের ২২৪.৪৩ ঘনফুট। সবমিলিয়ে ১৮২ পিস ৩৯৬.৮৮ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে আকাশমনি, রঙ্গী আবেদনের সাথে গাছের টুকরায় হিসেব মিল না থাকায় গাছগুলো আটক করা হয়। সেগুলোতেও রেঞ্জ কর্মকর্তার সরকারী হেমার বা মার্কা দেওয়া রয়েছে।
এ ব্যাপারে রেঞ্জ অফিসার ফিরোজ আলম চৌধুরী বলেন, আমরা হয়তো ভুল করেছি। তবে সামগ্রিকভাবে আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে করিনি। এখন এই ব্যাপারে কি ধরনের ব্যবস্থা নিবো তার কোন কিছুই দেখছি না।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলাম বলেন, এব্যাপারে মৌলভীবাজার রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক রাজেশ চাকমাকে তদন্ত করার জন্য বলেছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন বিভাগ সুত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক রাজেশ চাকমা সরকারী সফরে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি আসলে বিষয়টি নিয়ে তিনি তদন্ত করবেন।
আপনার মন্তব্য