নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:৪৫

মুনির-তপন-জুয়েল স্মরণে আলোক প্রজ্বলন

জামায়াত-শিবিরের হামলার নিহত প্রগতিশীল ছাত্রনেতা মুনির-ই-কিবরিয়া চৌধুরী, তপন জ্যোতি দে ও এনামুল হক জুয়েলের স্মরণে সিলেটে আলোক প্রজ্বলন করেছে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সাংস্কৃতিক মোর্চা।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচী পালন করা হয়।

এসময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে বক্তারা, মুনির-তপন-জুয়েল হত্যার ঘটনা পুণঃতদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

দেবাশীষ দেবুর সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বের শুরুতে বক্তব্য রাখেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সাংস্কৃতিক মোর্চার আহ্বায়ক মিশফাক আহমদ মিশু।

মুনির-তপন-জুয়েল হত্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এই তিন তরুণকে হত্যার মাধ্যমে সিলেটে মৌলাবাদী গোষ্টি মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছিলো। স্বৈরাচারী সরকারের মদদে সেদিন জামায়াত-শিবির সিলেটে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। ফলে এটি কেবল তিন তরুণকেই হত্যা নয়, বরং অসম্প্রদায়িক রাজনীতিতেও আঘাত।

তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের এতো বছর পরও খুনিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা যায়নি। এটি আমাদের সবার জন্য লজ্জ্বার। তাই এই মামলাটি পুণঃতদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্তৃতিক জোট, সিলেটের সহ-সভাপতি শামসুল আলম সেলিম, নাট্য সংগঠক শামসুল বাসিত শেরো, সংক্ষুব্দ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত, পরিবেশ কর্মী আশরাফুল কবির, কবি আবিদ ফায়সাল, নাট্যকর্মী সুপ্রিয় দেব শান্ত, মাহবুব রাসেল, রাজীব রাসেল, নিরঞ্জন সরকার অপু, দেবোজ্যোতি দাস দেবু, শাহ শরীফ উদ্দিন, দীপ দাস প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে সিলেটের রাজপথে হত্যা করা হয়েছিল তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা মুনির-ই-কিবরিয়া, তপন জ্যোতি দেব এবং এনামুল হক জুয়েলকে। সেদিন থেকে সিলেট শহরে আধিপত্য বিস্তার করে খুনের রাজনীতি শুরু করে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র। ২০১১ সাল থেকে নৃশংস হত্যাযজ্ঞের এই দিনটিকে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত