২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:৪২
প্রয়াত স্থপতি চৌধুরী মোস্তাক আহমদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মরণে সভা করেছে লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন।
শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের লামাবাজারে বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট (আই.এ.বি), সিলেট সেন্টারে এ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।
সভার শুরুতেই লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ রাগীব আলী প্রেরিত শোকবার্তা পাঠ করা হয়।
এতে তিনি বলেন, স্থপতি চৌধুরী মোস্তাক ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির একজন অকৃত্রিম বন্ধুসুলভ শিক্ষক, তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সম্পাদক স্থপতি এহসান শওকতের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির সম্মানিত উপাচার্য ড. আজিজুল মওলা।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমদ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান স্থপতি রাজন দাস।
লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য্য ড. আজিজুল মওলা বলেন, চৌধুরী মোস্তাক আহমেদেও প্রাক্তন ছাত্রদের আয়োজিত এই স্মরণ সভাই প্রমাণ করে তিনি শিক্ষক হিসেবে কতটুকু সফল ছিলেন।
বর্ষীয়ান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন বলেন, মোস্তাক ছিলেন সিলেটের স্থাপত্য চর্চা শুরুর দিকপালদের একজন।
স্থপতি রাজন দাস বলেন, মোস্তাক আহমেদের মতো একজন মানবিক মানুষ বিরল।
সভায় আরও বক্তব্য দেন স্থপতি কৌশিক সাহা, স্থপতি, স্থপতি তানভীর আহমেদ , স্থপতি গৌরপদ দে, স্থপতি বেলাল আহমেদ, স্থপতি তানজিমা সিদ্দিকা এবং অন্যান্য অ্যালামনাই স্থপতিবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, চৌধুরী মুশতাক আহমদ ১৯৭৪ সালে বুয়েট থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় ডিগ্রি নেন। ফল প্রকাশের আগেই ঢাকার একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান তাকে নিয়োগ প্রদান করে। এরপর ১৯৭৮ সালে তিনি চাকরি নিয়ে লিবিয়া যান। সেখানে ১৬ বছর চাকরির পর দেশে ফিরে প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্সি সার্ভিসেস’। পরবর্তীতে যা ‘ক্রিয়েটিভ ডিজাইন সেন্টার’ নামে পরিচিতি পায়।
কর্মজীবনে চৌধুরী মুশতাক লিডিং ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতার পাশাপাশি কামালবাজারস্থ ওই ইউনিভার্সিটির মূল ক্যাম্পাসের স্থপতি দলে প্রধান স্থপতির দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়া তিনি সিলেট নগরীর সুবিদবাজারস্থ সিলেট প্রেসক্লাব ভবন, সোবহানিঘাটস্থ ওয়েসিস হসপিটাল, ধোপাদীঘিরপারস্থ আল ফালাহ টাওয়ার, কাজীটুলা উঁচাসড়ক মসজিদ, সোবহানীঘাট কাঁচা বাজার মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনারও স্থপতি ছিলেন।
নিজস্ব পেশার বাইরে চৌধুরী মুশতাক লেখালেখির সাথেও জড়িত ছিলেন। ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় তার অনুবাদগ্রন্থ ‘দ্য প্রফেট’। কাহলিল জিবরানের বইয়ের এ অনুবাদটি সুধীমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। চৌধুরী মুশতাক আহমদের স্মরণে সম্প্রতি বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছে।
চৌধুরী মুশতাক আহমদ শিক্ষাবিদ মরহুম মুসলিম চৌধুরীর বড় ছেলে।
আপনার মন্তব্য