জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:

০২ নভেম্বর, ২০২১ ১৯:৩৩

জগন্নাথপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, গুলি: আটক ১৪

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে হামলা-সংর্ঘষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ ছয় জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে দুজনকে সিলেট ওসমানিতে ও অপরজন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সোমবার রাতে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইসহাকপুর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

এঘটনায় পুলিশ ১৪ জনকে আটক করেছে। আজ মঙ্গলবার তাদের সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইসহাকপুরের যুক্তরাজ্য প্রবাসী উস্তার গণি ও একই এলাকার যুক্তরাজ্য প্রবাসী সুরুজ আলী পক্ষের লোকজনের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে দীর্ঘদিন করে বিরোধ চলছিল। যার জেরে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে নোমান আহমদ (২৪) ও আব্দুস সালামকে (৪৫) সিলেট ওসমানি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের ১৪ জনকে আটক করেছে। এসময় সংঘর্ষে ব্যবহৃত বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

জগন্নাথপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সত্তার জানান, ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় উন্নয়ন কমিটি নিয়ে উস্তার গণি ও বদরুল ইসলাম পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলচিল। এরমধ্যে জের ধরে রাতে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হই। এঘটনায় উভয়পক্ষের ১৪ জনকে আটক করে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

ইসহাকপুরের বদরুল ইসলাম জানান, রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় আমি কিংবা আমাদের পক্ষের কেউ জড়িত নয়। উস্তার গণির পক্ষের লোকজন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসন্ত্রে সজ্জিত হয়ে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। এছাড়া বাড়ির লোকজন মারধরও করেছে।

অপরদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী উস্তার গণির পক্ষের সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান জানান, প্রতিপক্ষের লোকজনকে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে লোকজনকে আহত করেছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিন আহমদ জানান, রাতের ভাত খাওয়ার সময় ‘গোলাগুলির’ শব্দ শুনতে পেয়েছি। এসময় আমি বাহিরে বের হইনি।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডা. এ টি এম শাফায়াত সামস্ রকি জানান, মারামারির ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছয়জন এসেছিলেন। এরমধ্যে দুজনের শরীরে গুলির চিহ্ন সন্দেহে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। অপর একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি আছেন। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গোলাগুলির কোনো খবর পাইনি। সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত