জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

১০ নভেম্বর, ২০২১ ১৫:১৭

রাধারমণ দত্তের ১০৬ তম প্রয়াণ দিবস আজ

মরমী কবি বাউল সাধক রাধারমণ দত্তের ১০৬ তম প্রয়াণ দিবস আজ বুধবার। এ উপলক্ষে রাধারমণ সমাজ কল্যাণ সাংস্কৃতিক পরিষদের আয়োজনে দিন ব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার একটি অন্যতম উপজেলা হচ্ছে জগন্নাথপুর। বাংলা মরমি সাহিত্যের অব্যাহত ধারায় এ উপজেলার অবদান অপরিসীম। সারা দেশের ন্যায় জগন্নাথপুরের বুকেও বহু পীর, দরবেশ, সাধু সাধক, সন্ন্যাসী জন্ম গ্রহণ করেছেন এবং তাদের বাণীর মাধ্যমে এ দেশকে পুণ্য ভূমিতে পরিণত করেছেন। সুফি সাধকরা তাদের স্ব স্ব ধারায় মরমি সাহিত্যের প্রচুর সম্পদ রেখে গেছেন। যা গবেষণার বিষয় হয়ে রয়েছে। তারা চিত্তবৃত্তির এই সুরময় ভুবনে পদচারণ করে নিজস্ব সৃষ্টি ধারায় মরমি সাহিত্যের যে অমিয় প্রবাহ বইয়ে দিয়েছিলেন তা আজও দেশের মাটি ও বাতাসে অপূর্ব ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করে চলেছে।

উপমহাদেশের আধ্যাত্মিকতা বা মরমি সাধনার মূল কেন্দ্র বিন্দুর স্রোত ধারা যদিও বাংলা এবং ভারতের বাহিরেই জন্মলাভ করেছে, কিন্তু পরবর্তীকালে এ সুফি ধারা ও মরমি বাদ বাংলার উর্বর শ্যামল জমিতেই বিকাশ লাভ করেছে আশ্চর্যজনক ভাবে। সূফি সাধক সৈয়দ শাহ হোছন আলম, মরমি কবি সৈয়দ আসহর আলী চৌধুরী, সৈয়দ শাহনুর, রাধারমণ, মুন্সি রহমতুল্লাহ, আছিম শাহ, কালু শাহ সহ আউল বাউলের বিচরণ ভূমি এই জগন্নাথপুর। এদের গান আজ মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে মাটি ও মানুষের লোহিত কণায়।

মরমী কবি রাধারমণ দত্ত জন্মগ্রহন করেন ১২৪০ বঙ্গাব্দে বা ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে জগন্নাথপুর উপজেলার পৌরসভার কেশবপুর এলাকায়। পিতার নাম রাধা মাধব দত্ত পুরকায়স্থ ও মাতার নাম সুবর্ণা দেবী।

রাধারমণ সঙ্গীতের সংখ্যা ২ থেকে ৩ সহস্রাধিক হবে। রাধারমণ দত্ত শিল্পী, সুরকার ও একজন ভাল অভিনেতা ছিলেন। রাধারমণ সম্পর্কে অনেক অলৌকিক কথাও লোক মুখে শোনা যায়।

রাধারমণ ভাবে বিভোর হয়ে গান রচনা করতেন। শিষ্যরা শুনে তা লিখে রাখতেন। তিনি তত্ত্ব সংগীত, দেহতত্ত্ব, ভক্তিমূলক, অনুরাগ, প্রেম, ভজন, বিরহ, আক্ষেপ, মান, ধামাইল ইত্যাদি বিভিন্ন শাখার গান রচনা করতেন। বাংলার বধূ ও যুবতিদের কণ্ঠে বিভিন্ন বিবাহ অনুষ্ঠানে এখনও ভাইবে রাধারমণ বলে, ভনিতাযুক্ত ধামাইল গান শুনা যায়।

তাছাড়া গ্রাম বাংলার হাটে-মাঠে মনের সুখে বা দুঃখে অনেকেই উতলা মনে গান গেয়ে পথ চলতে দেখা যায়। মাঝিরা মহানন্দে প্রেম বিরহের গানের সূর টানতে টানতে নৌকা চালায়। তাছাড়া দেশের ভাটি অঞ্চলে চাষিদের যখনই অবকাশ মেলে তখনই জমিয়ে দেয় তারা বাউল গানের আসর। এসব গানের অধিকাংশই ‘ভাইবে রাধারমণ বলে ভনিতাযুক্ত। বাংলাদেশ ও ভারতের বেতার ও টেলিভিশন রাধারমণের গান প্রায় সময় প্রচার করে আসছে। চলচ্চিত্রেও রাধারমণের বেশ কিছু গান সংযোজিত হয়েছে।

রাধারমণ দত্তের সাধনা ছিল সহজিয়া বৈঞ্চব পদ্ধতি। সংগীত ছিল তার সাধনার অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ৩২ বছর তিনি সাধনা করেছেন। রাধারমণ দত্ত প্রায় ৮২ বছর বয়সে ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে অর্থাৎ ১৩২২ বাংলার ২৬ কার্তিক শুক্রবার শুক্লা ষষ্টিতে মরদেহ ত্যাগ করেন।

এদিকে, বৈঞ্চব পদাবলির মহা রাজা মরমি সাধক কবি রাধারমণ দত্তের ১০৬ তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

রাধারমণ সমাজ কল্যাণ সাংস্কৃতিক পরিষদ কর্তৃক রাধারমন দত্তের জন্ম মাটি জগন্নাথপুর পৌরসভার কেশবপুর বাজার সংলগ্ন রাধারমণ দত্তের স্মৃতি কমপ্লেক্সের নির্ধারিত স্থানে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি থাকবেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহাঙ্গীর হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদ।

পরে দ্বিতীয় পর্বের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত