নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০১:৫১

কে হচ্ছেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি?

শনিবার সম্পন্ন হয়েছে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্যানেল সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ ও সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে ১১ জন করে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।

এই পরিচালকদের ভোটে এবার চেম্বারের সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন। আজ (সোমবার) বিকেলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে দুই প্যানেল থেকেই সমান সংখ্যক পরিচালক নির্বাচিত হওয়ায় সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল জানিয়েছেন, নির্বাচিত পরিচালকরা আজ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন।

তবে চেম্বার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনে আপোষে আসার চেষ্টা করছে দুই প্যানেল। এনিয়ে দুই প্যানেলের মধ্যে নানামুখী সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এনিয়ে প্যানেলগুলোর মধ্যে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নবনির্বাচিত কয়েকজন পরিচালক।

দুই প্যানেল থেকেই সভাপতি ও সহ-সভাপতি নিজেদের প্রার্থী তালিকা রোববার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে।

সভাপতি পদে সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে আবু তাহের মো. শোয়েব, তাহমিন আহমদ ও ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদের নাম দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে, সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে সভাপতি পদে একক প্রার্থী হিসেবে আব্দুর রহমান জামিলের নাম জমা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনে চেম্বার পরিচালকদের পাশাপাশি সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতারাও সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষত সিলেট আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা এব্যাপারে আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। চেম্বার নির্বাচনে এই দুই নেতা দুটি প্যানেলের নেপথ্যে ছিলেন। তাদের ভূমিকার উপরও নির্ভর করছে চেম্বারের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন।

জানা যায়, আপোষে একটি প্যানেল থেকে সভাপতি ও আরেকটি প্যানেল থেকে দুই সহ-সভাপতি মনোনীত হতে পারেন। এনিয়ে দুই প্যানেলের মধ্যে দরকষাকষি ও সমঝোতার চেষ্টা চলছে। প্যানেলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে বলেও কানাঘুষা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার একজন তাহমিন আহমদকে ও আরেকজন আব্দুর রহমান জামিলকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফলে মধ্য থেকে একজন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে চেম্বারের একাধিক পরিচালক জানিয়েছেন।

এরআগে শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চার ক্যাটাগরির দুটির নির্বাচনে ৪০ প্রার্থীর মধ্যে পরিচালক পদে বিজয়ী হয়েছেন ১৮ জন। অপর দুই ক্যাটাগরিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪ জন পরিচালক বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে বিজয়ীরা হলেন- অর্ডিনারি শ্রেণি থেকে সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেলের ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ (৭১৩ ভোট), ফখর উছ সালেহীন নাহিয়ান (৭০৮), মুশফিক জায়গীরদার (৬৫৩) এবং সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের হুমায়ূন আহমদ (৯১১ ভোট), জহিরুল কবির চৌধুরী (৮৬৭), ফাহিম আহমদ চৌধুরী (৮৫৯), খন্দকার ইসরার আহমদ রকী (৭৯৬), আলীমুল এহছান চৌধুরী (৭৩২), মো. আব্দুস সামাদ (৬৮৮), দেবাংশু দাস মিঠু (৬৮৪), মো. নজরুল ইসলাম (৬৫৩), আব্দুর রহমান জামিল (৬৫০) বিজয়ী হয়েছেন।

এসোসিয়েট শ্রেণি থেকে বিজয়ী হয়েছেন, সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের তাহমিন আহমদ (৬৫৭), মুজিবুর রহমান মন্টু (৬৫৭), ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী রাজিব (৬১২) ও কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৬০৭) এবং সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের জিয়াউল হক (৫৭০ ভোট) ও হাজী সরোয়ার হোসেন ছেদু (৫৪০)।

এদিকে, পরিচালক প্রার্থীদের মধ্যে ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণিতে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের চারজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন- ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে আবু তাহের মো. শোয়েব (চেম্বারের বিদায়ী সভাপতি), মো. হিজকিল গুলজার ও মো. আতিক হোসেন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণিতে আমিনুর রহমান। এ দুই ক্যাটাগরিতে চারটি পরিচালক পদে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ কোনো প্রার্থী দেয়নি।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ ও সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল থেকে সমান সংখ্যক তথা ১১ জন করে প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত