সিলেটটুডে ডেস্ক

১৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:২৬

শহীদ ডা. দীগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ পরিবার স্মরণে ‘লেখা আছে অশ্রু জলে’

মণিপুরী রাজবাড়ি মাঠে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় সিলেট মিউনিসিপ্যালিটির অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শহীদ ডা. দীগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ ও তার পরিবারের ৯ সদস্য স্মরণে আয়োজন করা হয়েছে "লেখা আছে অশ্রু জলে" শীর্ষক স্মরণ অনুষ্ঠান। বিশ্ব সিলেট সম্মেলন আয়োজন কমিটির পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হবে অনুষ্ঠান। সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে মাঠের উলটা দিকে বিশ্বম্বর আখড়ার ভূমিতে ৭ শহীদের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র সাত ঘণ্টা আগে সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থল মনিপুরী রাজবাড়িতে মর্টার সেল বিষ্ফোরনে শহীদ হয়েছিলেন সিলেট মিউনিসিপ্যালিটির অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শহীদ ডা. দীগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ। সঙ্গে শহীদ হন ওই পরিবারের আরও আট সদস্য। যাদের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী সুনীতি বালা এন্দ, বড় ছেলে দিব্যেন্দু এন্দ, মেয়ে শিখা এন্দ ও শিবানী এন্দ, নাতি অপু এন্দ, নাতনি পম্পা এন্দ, ছেলের বউ খনা এন্দ ও বেয়াই প্রকৌশলী গোপেশ চন্দ্র দাস। পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের সংবাদ শুনতে রেডিওতে কান পেতে ছিলেন ডাঃ দীগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আর ঠিক তখনই সেখানে এসে পড়ে মর্টারের একটি গোলা। নিমেষে প্রাণ কেড়ে নেয় ডাঃ এন্দ, স্ত্রী সুরুচি বালা এন্দ ও বেয়াই প্রকৌশলী গোপেশ চন্দ্র দাসের। মারাত্বক আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান ছেলে দিব্যেন্দু এন্দ, মেয়ে শিখা এন্দ এবং নাতি অপু এন্দ। সাত দিন পরে মারা যান আর এক মেয়ে শিবানী এন্দ, ছেলের স্ত্রী খণা এন্দ এবং নাতনি পম্পা এন্দ। খণা এন্দকে ধর্মীয় রীতিতে দাহ করা হয় এবং শিশু পম্পা এন্দকে সুরমা নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। বাকি সাত জন শহীদকে মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় তাদের সেই সময়ের বাসভবনের পেছনের সামান্য জায়গায় সমাহিত করা হয়। যা কালের পরিক্রমায় আবর্জনার ভাগাড়ে পরিনত হলে ২০১১ সালে চল্লিশ বছর পর প্রথম বারের মত পরিষ্কার করে শহীদ সমাধি চিহ্নিত করে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়া হয়।

শহীদদের সমাহিত করার কাজে অংশ নেয়া প্রতিবেশী আব্দুর রহমান চৌধুরী ও সিলেট পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান আফম কামাল সমাধিস্থল দেখিয়ে সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। সে আয়োজনে উপস্থিত হয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র বদরুদ্দীন আহমেদ কামরান স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও অদ্যাবধি তা নির্মাণ করা হয়নি।

জমিদার বরদা কিংকর এন্দর ছেলে চিকিৎসক দীগেন্দ্র চন্দ্র এন্দ ও প্রকৌশলী গোপেশ চন্দ্র দাসের শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল। এই পরিবারের শহীদ অন্য ছয় সদস্যদের কারো আত্মত্যাগের কোন স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। বিশ্ব সিলেট সম্মেলন আয়োজন কমিটি'র পক্ষ থেকে বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনকালে এই শহীদ পরিবারের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত