তাহিরপুর প্রতিনিধি:

০৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ১৯:৪২

তাহিরপুরের শ্রীপুর উত্তর ইউপি: জামানত হারাচ্ছেন জামাই-শ্বশুর

মো. শামছুল হক ও খায়রুল বাশার।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে শ্রীপুর উত্তর ইউপিতে জামানত হারাচ্ছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী।

তারা হলেন- ইসলামী ঐক্যজোট নেতা খায়রুল বাশার ও উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মো. শামছুল হক। তারা সম্পর্কে আপন জামাই-শ্বশুর।

চেয়ারম্যান পদে জামাই বনাম শ্বশুরের মধ্যে ভোটের লড়াই জমেছে উঠেছিল। ভোটের লড়াইয়ে তারা কেউ কাউকে ছাড় দেননি। তাদের ভোটের লড়াইয়ে এলাকায় মুখরোচক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীপুর উত্তরসহ উপজেলার ৭ ইউপিতে সপ্তম ধাপের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। শ্রীপুর উত্তর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ওই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা আলী হায়দার। তিনি চশমা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৮৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের (নৌকা) প্রার্থী আবুল খায়ের ৬ হাজার ২০৭ ভোট পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সালেহ আহমেদ সবুজ (আনারস) পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৯৩ ভোট।

অন্যদিকে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা খায়রুল বাশার (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১ হাজার ৪১২ ভোট। উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মো. শামছুল হক (ঘোড়া) পেয়েছেন ২ হাজার ৫৬৬ ভোট।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শ্রীপুর উত্তর ইউপিতে মোট ভোটার ৩০ হাজার ৬৩৭। বৈধ ভোট পড়েছে ২২ হাজার ৭৫টি। এখানে খায়রুল বাশার (মেয়ের জামাই) পেয়েছেন ১ হাজার ৪১২ ভোট ও মো. শামছুল হক (শ্বশুর) পেয়েছেন ২ হাজার ৫৬৬ ভোট। যা মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম। জামানত ফেরত পেতে তাদের ২ হাজার ৭৫৯ ভোটের প্রয়োজন ছিল।

নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দৌলা। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তারা প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোটও পাননি। এ কারণে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত