১৪ এপ্রিল, ২০২২ ০০:৩৪
হাওরে বাঁধ ধসে যাওয়া ঘটনা যেন থামছেই না। নদীতে পাহাড়ী ঢলের পানির চাপ না থাকলেও ফসল রক্ষা বাঁধ ধসে পড়ছেই।
টাংগুয়ার হাওরে নজরখালী বাঁধ ভেঙে ফসল হানির রেশ কাটতে না কাটতেই হুমকির মুখে পড়েছে টাংগুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ারের পাশে গাঙ্গের বাঁধটি। ধসে পড়েছে এই বাধেঁ ১৫০ ফিট বাধেঁর মধ্যে ৫০ফিট বাঁধ। বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৩নং পিআইসি।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে বাধঁটি ধসে পড়েছে। বাঁধে ফাটল দেখা দেয়ায় উৎবেগ আর উৎকণ্ঠায় মধ্যে সময় পাড় করছেন কৃষক। এই বাধেঁ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৫লাখ টাকার বেশি। বাঁধ ভেঙে গেলেও পিআইসির সভাপতি আনোয়ারের দেখা পাওয়া যায় নি। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী ভেঙে যাওয়ায় বাঁধটি মেরামত কাজ শুরু করে।
এ বাঁধটি উপর নির্ভরশীল নোয়াল,জয়পুরের হাওরসহ ১০টি হাওরের হাজার হাজার কৃষক। এই হাওর গুলোতে ৬ হাজার হেক্টরের বেশি বোরো চাষ করেছেন কৃষকগন। এসব হাওরে পাশ্ববর্তী মধ্যনগর উপজেলার কৃষকরা বোরো জমি চাষ করেছেন।
শুধু ২৩ নং পিআইসি নয় ২৪, ২৫, ২৬, ৪৩, ৪৪সহ প্রতিটি বাঁধের মাটি ধসে পড়েছে। এসব বাধেঁ সরকার নির্ধারিত সময়ে ও সঠিক ভাবে কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে দায়িত্বে থাকা পিআইসিদের বিরুদ্ধে। বাঁধে অনিয়ম না হলে এভাবে মাটি ধসে পড়ার কথা নয় বলে দাবী করেন হাওর পাড়ের কৃষক আলমগীর মিয়া,সাকিল মিয়া সহ সচেতন মহল। কারন ফসল রক্ষা বাঁধের জন্য সরকার প্রতিটি বাঁধে চাহিদার চেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয় শুধু একটাই উদ্দেশ্য কৃষকের সোনালী ফসলের যেন ক্ষতি না হয়।
হাওর পাড়ের কৃষক ও কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজন বলছেন, দুর্বল বাঁধ ও ক্লোজারে (খালে) যথাযথ নিয়মে কাজ না হওয়ার কারণেই হাওরে উৎপাদিত একমাত্র বোরো ধান এখন ঝুঁকিতে পড়েছে। বেশির ভাগ ক্লোজারেই বাঁশ, চাটাই ব্যবহার করা হয়নি। বাঁধের নিচে এ কারণে সৃষ্ট এক ধরনের গর্ত (স্থানীয় ভাষায় ফুলপা) রয়েছে প্রচুর। ওই সব গর্ত ভরাটে কাজ হয়নি। মাটিকে ভালো করে স্থায়ী করতে দুরমুজ (চাপ) দেওয়া হয়নি।
হাওর বাঁচা আন্দোলনের নেতারা বলছেন, সুনামগঞ্জ হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ বহুগুণ বেড়েছে। বেড়েছে বাঁধের দৈর্ঘ্য ও উচ্চতাও। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ নকশায় বাঁধ নির্মাণ ও তদারকিতে ঘাটতি থাকায় টেকসই হয়নি। এ কারণেই পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাওরসংলগ্ন নদীগুলো ভরে উঠতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তাঁরা বলছেন, বিগত চার বছর পাহাড়ি ঢল হয়নি। পিআইসি ও পাউবোর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন এ বছরও হবে না। এ কারণেও বাঁধের কাজের মান খারাপ হয়েছে।
টাংগুয়ার হাওরের গাঙ্গের বাঁধে পাশেই বাড়ি আহমেদ কবির তিনি জানান, আমি টাংগুয়ার হাওরের গাঙের বাঁধে সকালে গিয়েছিলাম চোখের সামনেই দেখতে পেলাম আস্তে আস্তে বাঁধের মাটি ধসে পড়ছে। পরে সবাই এসে বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করে ঝুঁকি মুক্ত করেছি।
চিলানী তাহিরপুর গ্রামের কৃষক সাহাজ উদ্দিন জানান, ঐ হাওরে আমি ৪০কিয়ার জমি বোরো আবাদ করেছি ধার দেনা করে। এই জমিই আমার মুল আয়ের উৎস। কোন কারনে যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে পথে বসতে হবে। বাঁধ নির্মাণে কঠোর নজরদারির পাশা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত পিআইসিদের
জয়পুর গ্রামের কৃষক আল আমিন জানায়, ১৩কিয়ার জমিতে বোরো চাষ করেছেন তিনি। এই বাধঁটি ধসে পড়ায় খবর পেয়ে আতংকের মধ্যে ছিলাম। এই যেন নজরখালী বাঁধের মত বাঁধ ভেঙে আমার কষ্টের ফলানো সোনালার ফসত তলিয়ে গেল।
কৃষক নুর আলমের তিনি এই হাওরে ৩৫ কিয়ার বোরো জমি চাষ করেছেন। বাঁধের মাটি ধসে পড়েছে। বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে গেলে ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। তবে খুবেই কম পরিমানে ধান পাকায় এখনও ধান কাটা শুরু হয় নি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির জানান, একটি বাঁধ ধসে পড়ার খবর পেয়েছি। সেখানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাঁধটি এখন ঝুঁকি মুক্ত। আশা করি আর কোন সমস্যা হবে না।
আপনার মন্তব্য