নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ এপ্রিল, ২০২২ ০০:২৯

শাবির বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক প্যানেলে ‘বিভক্তি’

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত অনুসারী শিক্ষক প্যানেলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এই প্যানেলটি ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ নামে পরিচিত। শাবিতে বিএনপি জামায়েতের অনুসারী শ’খানেক শিক্ষক রয়েছেন।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত অনুসারী শিক্ষক অনুসারী শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতানৈক্য চলছিলো। শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে যা চরম আকার ধারণ করে।

গত ৩১ মার্চ শাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয়নি ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’। এই নির্বাচনে এতে আ্ওয়ামী ও বামপন্থীদের শিক্ষক প্যানেল ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ১১ টি পদের মধ্যে ৯টিতেই জয় লাভ করে। অপরদিকে, আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল  ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ জয়ী হয় দুটি পদে।

এরআগে ২০১০ সালে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে বিভক্তি দেখা দিয়েছিলো আওয়ামী ও বাম অনুসারী শিক্ষদের মধ্যে। তৈরি হয়েছিলো দুটি আলাদা প্যানেলের। এই বিভক্তি এখনো চলমান রয়েছে। এবার সে পথেই হাঁটছে বিএনপি জামায়াত অনুসারী শিক্ষকরা।

সর্বশেষ শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’-এর প্যানেল না দেওয়া নিয়ে এই প্যানেলের শিক্ষকদের মধ্যেই রয়েছে নানা কানাঘোষা। আছে এই বলয়ের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও। এনিয়ে কানাঘোষার মধ্যেই গত ১১ এপ্রিল এই বলয়ের শীর্ষ নেতা অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দাবি করে চিঠি দেন বিএনপি-জামায়াত অনুসারী ৫ শিক্ষক।

শিক্ষকদের কয়েকজন মনে করেন, এই লিখিত চিঠি প্রদানের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত পন্থী শিক্ষকদের মধ্যেকার মতানৈক্য ও বিভক্তি প্রকাশ্য রুপ নিলো।

এই বলয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তির নেতৃত্বে থাকা, জামায়াত নিয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশের অস্বস্থিসহ বিভিন্ন কারণে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’-এর মধ্যে অনেকদিন ধরেই মতানৈক্য চলছে।

এই শিক্ষকরা জানান, এবারের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জামায়াত অনুসারী শিক্ষকরা অংশ নিতে চাননি। আবার বিএনপি অনুসারী একটি অংশ জামায়াতকে ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তবে এনিয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় নির্বাচনে প্যানেল দেয়নি ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’। তবে নির্বাচনে প্যানেল না দিলেও এই বলয়ের বেশিরভাগ শিক্ষকই ভোটপ্রদান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই বলয়ের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষকরা নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল ও বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের পছন্দের প্যানেলকে বিজয়ী করতেই আলাদা প্যানেল দেন নি।

তাদের দাবি, এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পছন্দের প্যানেল ছিলো ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’। নির্বাচনে এই প্যানেল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করেছে।

নির্বাচনে আলাদা প্যানেল না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’-এর শীর্ষ নেতা অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমকে লিখিত চিঠি দেন এই বলয়ের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোরাদ ও অধ্যাপক ড. শাহ মোঃ আতিকুল হক।

চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচন থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ায় এবং ফোরাম সংশ্লিষ্ট স্বার্থ বিসর্জিত হওয়ায় জাতীয়তাবাদী অংশের অন্যতম জ্যৈষ্ঠ সদস্য অধ্যাপক ড. মোঃ সাজেদুল করিমকে বৈঠক আয়োজন করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বিভিন্নভাবে গুরুত্বহীন অজুহাতে অধ্যাপক মো. সাজেদুল করিম বৈঠক আয়োজন থেকে বিরত রয়েছেন।

চিঠিতে বৈঠক আয়োজনে কালক্ষেপণের লিখিত সদুত্তর কামনা করে এই ৫ শিক্ষক।

এ ব্যাপারে এই বলয়ের সদস্য পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান বলেন, ব্যক্তি স্বার্থ ও ক্ষুদ্র স্বার্থ এবং প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গত নির্বাচনে আমাদের প্যানেল দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, জামায়ািত আগে থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছিলো।  আমরা চেয়েছিলাম পুরো প্যানেল না পারলেও ৪/৫ টি পদে হলেও প্রার্থী দিতে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোন পদেই প্রার্থী দেওয়া হয়নি।

কেন প্যানেল দেয়া হয়নি এর কারণ অনুসন্ধানের জন্য বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়ে খালিদুর রহমান বলেন, আমরা ভাঙ্গন চাই না। তবে জবাবদিহীতা চাই।
 
‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ বর্তমাে তিন সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এই কমিটির জ্যোষ্ঠ সদস্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, কয়েকজন সদস্য একটি চিঠি দিয়েছেন। তবে চিঠির কিছু শব্দ প্রাতিষ্ঠানিক চিঠির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই এটি আমি গ্রহণ করিনি।

তিনি বলেন, যারা চিঠি দিয়েছেন তারা মনে করছেন এখনই মিটিং করা প্রয়োজন। আবার অনেকেই মনে করছেন, রোজার সময়ে ক্লাস পরীক্ষা নিয়ে সবাই ক্লান্ত থাকে। তাই এই সময়ে মিটিং দরকার নেই। এ কারণে আমরা রোজার পরে মিটিং করবো।

প্যানেল না দেয়ার পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ প্রসঙ্গে সাজেদুল করিম বলেন, আমরা কেন প্যানেল দিতে পারিনি এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। নানা অভিযোগও আছে।  আমরা মিটিং করেই সব বিষয়ে পর্যালোচনা করবো।

নির্বাচনকালীন সময়ে মেয়ের বিয়ের কারণে ছুটিতে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, একারণে আমি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারিনি। অন্য যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা চেষ্টা করেছেন, তবে সময়সল্পতার কারণে প্যানেল দিতে পারেননি। এর যৌক্তিক কারণও আছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন তো হয়ে গেছে। এখন এ নিয়ে টচানাহেচড়া যারা করছে তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত