জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

২৪ মে, ২০২২ ১৫:১৩

জৈন্তাপুরে কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন ভিডিপি সদস্যরা

বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ধান কাটা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলার উজানীগর এলাকার দরিদ্র কৃষক সুলতান মিয়া। ধান কাটতে না পারায় চোখের সামনে ক্ষেতের পাকা সোনালী ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। দিন ৫০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছিলেন না। এমতাবস্থায় মাঠের ধান কেটে দিলেন নিজপাট ইউনিয়ন আনসার-ভিডিপি সদস্যরা। তারা কয়েকটি প্লটের পাকা ধান কেটে মাথায় করে কৃষকের ঘরে তুলে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাজ করে তারা কৃষকের ধান কেটে দেন। এছাড়া যেকোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন আনসার ভিডিপির সদস্যরা।



সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের। এতে জৈন্তাপুর উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের বোরো ধান কিছুটা ভেসে উঠেছে। প্রায় জমিতে এখনো পানি এ অবস্থায় ধান কাটতে শ্রমিক সঙ্কট দেখা নিয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত পাকা ও আধপাকা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক। অবশেষে কৃষকের জমির ধান কেটে দিচ্ছে নিজপাট ইউনিয়ন আনসার ভিডিপির সদস্য সহ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল হাসিম ও এনামুল হক।

স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত নিজপাট ইউনিয়ন ভিডিপির দলনেতা বিলাল হোসেন লিটন জানান, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া কৃষকের পাকা ধান কাটা নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন অসহায় অনেক কৃষক। এ অবস্থায় আমি নিজেই ধান কাটা শুরু করি। আমার সঙ্গে আনসার সদস্যরাও যোগ দেন। আমি আমার ইউনিয়ন আনসার ভিডিপির সদস্যদের নিয়ে উপজেলায় অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছি। গতকাল তাহের মিয়ার জমিতে ধান কেটেছি আজ সুলতান মিয়া ক্ষেতের ধান কাটছি। ক্ষেতে আনসার ভিডিপির সদস্যরা হাজির হলে অবাক হয়ে যান কৃষক সুলতান মিয়া।

লিটন আরও বলেন, বন্যার সময় আমি ডুবে যাওয়া বসত ঘর তেকে মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়েছি। মানুষের জন্য কাজ করলে আমার মন শান্তি পায়।

কৃষক সুলতান মিয়া বলেন,‘ধান কাটা নিয়ে মহাবিপদে ছিলেম। আনসার আইছে আমার ধান কাটতে। আমি তারারে দেখিয়া অনেক খুশি। আমি তাদের জন্য দুয়া করি।

জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে ১০০ হেক্টর বোরো ধান, ৩৭০ হেক্টর আউশ বীজ তলা ও ৬৫০ বিঘা গ্রীষ্মকালীন সবজি তলিয়ে গেছে বলে জানান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত