১৬ জুন, ২০২২ ২১:৫৯
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে লাম্পিং স্কিনি ডিজিস নামক ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে গরু। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ রোগে গরু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৬ জুন)জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাবে লান্সিং ভাইরাস নামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গরু। স্থানীয় ভাবে গরুর মালিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ছোট বড় সব আকারের গরুর মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু লালন পালন করেছে বিক্রয়ের জন্য।ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়ায় গরুর মালিকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। গরু আক্রান্ত হলে ঈদকে সামনে রেখে বিক্রি করতে পারবেন না। ফলে পরতে হবে আর্থিক ক্ষতির মুখে।
এ রোগে আক্রান্ত গরুর গলা, সিনার নিচে পানি আসে। হাঁটু ও খুড়ার (পায়ের গুড়ালী) কাছে ফুলে যায়। পুরো শরীর জুরে ফুঁড়ার মতো ফুলে উঠে। আক্রান্ত স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। গায়ে জ্বর থাকে। খাবার কমে যায়। আক্রান্ত গরু সুস্থ হতে বেশ কিছু দিন সময় লাগে।
উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, লাম্পিং ভাইরাসে তার একটি বাছুর আক্রান্ত হয়েছে। বাছুটির পুরো শরীর ফোড়ার মতো ফুলে গেছে। আশপাশে বহু গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
জগন্নাথপুর কেশবপুর গ্রামের দোলাল বলেন, তাদের একিটি গরু আক্রান্ত হয়েছে। গরুটির খাবার গ্রহণ কমে গেছে, শরীরে জ্বর থাকে। টিকা দিচ্ছি চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল হচ্ছে। গরু রাখার স্থান পানি উঠে গেছে কি করি এখন কষ্টে আছি।
এ.আই টেকনিশিয়ান সরকারি কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র দীপন গোপ জানান, প্রতিদিনই বহু সংখ্যক ব্যক্তি এ রোগের আক্রান্ত গরু নিয়ে পশু হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছে আমরা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। ডাক্তাররা এ রোগের চিকিৎসায় এমোক্সি সিলিন, এন্টি হিসাটামিন, মিলুক্সিকাম, হাইকো মক্স, এসটা ভেট, জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের ব্যবস্থা পত্র দিচ্ছেন। ক্ষত স্থানে সামিড ভেট পাউডার লাগানো হয়। এ সব ওষুধ ব্যবহার করলে ও গরু সুস্থ হতে বেশ সময় লাগে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, বিভিন্ন স্থানে লাম্পিং ভাইরাসে গরু আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গরুর মালিকরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।
আপনার মন্তব্য