২১ জুন, ২০২২ ১০:৪২
চলমান বৃষ্টি আর ঢলের পানিতে নগরীর আখালিয়া এলাকা কমর পানি। দুদিন আগে যখন বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন আখালিয়া বিজিবি গেটের উপর একটি বেজিকে বসে থাকতে দেখা যায়। মানুষ দেখলে দৌড়ে পালিয়ে যায় এটাই বেজির স্বভাবসুলভ আচরণ। কিন্তু ওইদিন বেজি পাশ দিয়ে অনেক মানুষ আসা যাওয়া করলেও সে পালিয়ে যায়নি। মানুষজন কাছাকাছি গেলে আত্মরক্ষার্থে চিৎকার করলেও সে গেটেও লোহার গ্রিলে ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো। কারণ বেজিও জানে নিচে নামলে পানিতে ডুবে মরে যাবে। তাই সেও বসে রইলো পানি কমার অপেক্ষায়।
এই বেজির মত একই অবস্থা সিলেটের পশুপাখির। সিলেটের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি সংকটে রয়েছে পশু পাখিও। গৃহপালিত পশু পাখিদেরকে অনেক মানুষ সাথে করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসলেও বিপাকে পড়ছে সড়কে থাকা কুকুর, বিড়াল। তাই এই বন্যা পরিস্থিতিতে প্রাণে বাঁচতে প্রাণপণ চেষ্টা তাদের। পাশাপাশি বনে জঙ্গলে থাকা পশুপাখিও বাসস্থান ও খাবার সংকটে পড়েছে।
গত রোববার রাতে সিলেটের উপশহরের সি ব্লকের ৩৭ নাম্বার রোডে পানিবন্দি অবস্থায় আতংকিত ও অভুক্ত একটি কুকুর উদ্ধার করেন পরিবেশকর্মী বিনয় ভদ্র। তাঁর মত নগরীর বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পরিবেশ কর্মী কাজ করছেন পানিবন্দি এসব প্রাণীদের উদ্ধার করতে।
নগরীর বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রও মানুষজন তাদের পালিত হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগল নিয়ে এসেছেন। সিলেট সদর উপজেলার মানসিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কলসুমা বেগম দুই বাচ্চার সাথে চারটি হাঁস ও দুটি ছাগল নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে পানি উঠেছে তাই বাচ্চাদের নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছি। চারটা হাঁস ও দুটি ছাগল আছে আমার। এগুলোও সাথে করি নিয়ে আসছি। খালি বাড়িতে পানির মধ্যে এগুলোকে রেখে আসতে মন মানছিল না। তাই সাথে নিয়া আসছি।
এদিকে বিপাকে পড়া এসব প্রাণীদের উদ্ধার ও খাবার সরবরাহ করছে 'এ্যানিমেল লাভারস অব সিলেট' নামের একটি সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা। এই সংগঠনের কর্মীরা জানান, গত তিনদিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁরা প্রায় ৩০ কুকুর পানি থেকে উদ্ধার করে শুকনো জায়গায় রেখেছেন। এবং প্রায় ২০০ অভুক্ত কুকুরকে খাবার খাইয়েছেন। একই সময়ে তাঁর প্রায় ১৫টি বিড়াল খুব খারাপ অবস্থায় পানি থেকে উদ্ধার করে বিভিন্ন বিড়াল প্রেমীদের বাসায় নিরাপদে রাখা হয়েছে।
এ্যানিমেল লাভার্স অব সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা আয়েশা আরা লস্কর বলেন, বন্যায় বিপাকে পড়া মানুষকে সাহায্য করার মানুষের অভাব হয় না। তাই আমরা বন্যার পানিতে বিপাকে পড়া প্রাণীদের উদ্ধারে কাজ করছি। এসব প্রাণী উদ্ধারে গত তিন দিন যাবত আমার ছয়টি টিমে কাজ করছি। কুকুরগুলোকে আমরা পানি থেকে উদ্ধার করে একই এলাকার শুকনো জায়গায় রেখে খাবার খাইয়ে এসেছে। অন্য এলাকায় নেইনি কারণ অন্য এলাকায় নিলে সে নিজ এলাকায় ফিরতে পারবে না। আর বিড়ালগুলোকে যখন উদ্ধার করি তখন খুব খারাপ অবস্থা ছিল। তাই বিড়ালগুলোকে উদ্ধার করে বিড়াল পালন করে এমন কয়েকটি বাসায় রেখেছি।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে নৌকা ভাড়া অনেক বেশি তাই আমরা ঢাকা থেকে কিছু প্লাস্টিকের নৌকা নিয়ে এসেছি এই প্রাণীদেরকে উদ্ধারের জন্য। পাশাপাশি এই কাজের জন্য আরও সেচ্ছাসেবী প্রয়োজন। এ ব্যাপারে কেউ কাজ করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ করছি।
আপনার মন্তব্য