২০ আগস্ট, ২০২২ ২২:১৮
ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের এক পক্ষ না মানায় ফের চা শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজবির রহমান। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
এতে চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালাসহ শ্রমিক নেতারা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
বিকেলে শ্রমিক নেতাদের সাথে এক দফা বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক।
এরআগে দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সাথে
শ্রম অধিদপ্তর ও সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরী ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করবেন বলে জানানো হয়। এমন আশ্বাসের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেয়ার কথা জানান শ্রমিক নেতারা।
বৈঠকের পর বিকেলে চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করছি। আমাদের মজুরি ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর থেকে এসে আমাদের সাথে বসবেন বলে জানিয়েছেন। সেখানে আমাদের দাবিদাওয়া তাকে জানানো হবে। তাই তার আশ্বাসে আমরা আপাতত ধর্মঘট প্রত্যাহার করছি। রোববার থেকে সব শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবে।
এদিকে, নেতাদের এই সিদ্ধান্তের পর শ্রম দপ্তরের সামনেই বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শ্রমিকরা। তারা ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ারও কথা জানান তারা।
বিকেলে সিলেটে জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকের পরও শ্রমিকদের একটি অংশ সমঝোতা না মেনে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। সন্ধ্যায় তারা নগরে বিক্ষোভ মিছিলও করে।
এসময় চা শ্রমিক ফেডারেশনের সংগঠক অজিত রায় বলেন- আমরা এ সিদ্ধান্ত মানি না। কমপক্ষে ২০০ টাকা দৈনিক মজুরি ছাড়া মানবো না। আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
আন্দোলন নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে এমন বিভক্তির পর রাতে আবারও শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠকে বসেছেন জেলা প্রশাসক। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিলো।
আপনার মন্তব্য