২২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৭:০৬
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর থেকে সৃষ্ট বিরোধের প্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থগিত হয়েছে এমন সংবাদকে 'বিভ্রান্তিমূলক অপ-প্রচার' উল্লেখ করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক আদি রাজ উজ্জ্বল প্রেরিত সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী সাক্ষরিত এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত/বিলুপ্তি অথবা পুণর্গঠন সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এখতিয়ারভুক্ত সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এই ধরনের কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে তা গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে জানিয়ে দেয়া হবে।
সংবাদবিজ্ঞপ্তিটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, বিগত কিছুদিন যাবত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য হাসিলের লখ্যে একটি মহল জেলা ছাত্রলীগের কমিটি এবং নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক ঘৃণ্য অপ-প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন।
আমরা লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার সু-মহান ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষুণ্ণের লক্ষ্যে কিছু ছাত্রলীগ নামধারীরা জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থগিত হয়েছে এই মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও অপ-প্রচার চালিয়ে আসছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখা এই বিভ্রান্তিমূলক অপ-প্রচারের তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখা কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নির্দেশ মোতাবেক অত্যন্ত সুন্দর ও সুসগঠিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত/বিলুপ্তি অথবা পুণর্গঠন সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এখতিয়ারভুক্ত সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এই ধরনের কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে তা গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে জানিয়ে দেয়া হবে।
আমরা লক্ষ্য করছি একটি মহল জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ভাইসহ গণমাধ্যমের কর্মী ভাইদেরকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলার ব্যর্থ অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। কারও বিরুদ্ধে এই ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।
যারা সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছেন তাদের প্রতি আহ্বাব জানাই, আসুন সকল মত-পার্থক্য ভুলে গিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সকল মতভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করি।
সংবাদমাধ্যমের ভাইদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা কোন মহলের মনগড়া বক্তব্য/গুজবে কর্ণপাত করবেন না। সিলেট জেলা ছাত্রলীগ ৫২'র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে এই সংগঠনের নেতা কর্মীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে।
তাই ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এই সংগঠনের বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রকার অপ-পচারে লিপ্ত হলে সঠিক ও সত্য সংবাদ পরিবেশনে আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
এদিকে, কমিটি স্থগিত এবং স্থগিত নয় এমন পাল্টাপাল্টি দাবির প্রেক্ষিতে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডট কম এক "জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতাদের পদবী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা!" শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস. এম. জাকির হোসাইন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া কয়েকজনকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তাই তাদের আপাতত পদ-পদবী ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় আওয়া লীগের পক্ষ থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া নেতাদেরও পদবী ব্যবহার করে ব্যানার-ফেস্টুন না দিতে বলা হয়েছে।"
তিনি বলেন, "আগামী ৪ জানুয়ারী ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনেরও কাজ চলছে। এসব নিয়ে আমরা এখন ব্যস্ত আছি। তাছাড়া ৭ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী সিলেট যাবেন। এরপর আমরা সিলেট জেলা ছাত্রলীগের দুই পক্ষকে নিয়ে বসে একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছবে।"
একই প্রতিবেদনে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "একটি পক্ষ কমিটি স্থগিতের প্রচারণা চালাচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ পাগলের প্রলাপ। এসব ভুয়া বানোয়াট তথ্যে বিভ্রান্ত না হবার জন্য তিনি আহ্বান জানান। এমন কোন সিদ্ধান্ত হলে তা লিখিত ভাবে সাংবাদিক ভাইদের জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেন রায়হান।"
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহারিয়ার আলম সামাদ বলেন, "কমিটি স্থগিতের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। কিছু কুচক্রী মহল ছাত্রলীগের ভাব মূর্তি নষ্ট করার জন্য এমন গুজব ছড়াচ্ছে। যদি কখনো কমিটি বিলুপ্ত বা স্থগিত করা হয় তাহলে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক লিখিত ভাবে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানাবেন।"
আপনার মন্তব্য