বড়লেখা প্রতিনিধি

২২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২১:১৬

বড়লেখা পৌরসভা: ১৫ বছরেও হয়নি নিজস্ব ভবন

প্রায় ১৫ বছরেও আপন ঠিকানা পায়নি মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভা। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে জেলা পরিষদের জনমিলন কেন্দ্রকে কার্যালয় বানিয়ে চলছে কার্যক্রম। প্রায় নয় বছর আগে পৌর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু জায়গা সংকটে বড়লেখা পৌরসভার একটি নিজস্ব ভবন আর কোথাও মাথা তুলতে পারেনি।

বড়লেখা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১৪ জুন ৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে বড়লেখা পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরে আয়তন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও গেজেট আকারে তা প্রকাশিত না হওয়ায় এখনো শুরুর আয়তনই রয়েছে। এদিকে জেলা পরিষদের জনমিলন কেন্দ্রকে কার্যালয় বানিয়ে বড়লেখা পৌরসভার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। সেই জরাজীর্ণ টিনশেডের জনমিলন ভবনটিই এখনো কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০০৪ সালে পৌরসভাটি ‘খ’ গ্রেডে উন্নীত হয়।

অপরদিকে ২০০৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বড়লেখা সফরের সময় পৌরসভা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত নিজস্ব পৌর ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ১৫ বছরেও আপন একটি ঠিকানা খুঁজে পায়নি বড়লেখা পৌরসভা। এ ১৫ বছরেও এখানে কোন উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক ব্যবহার অনুপযোগী। পৌরবাসী বিভিন্ন মৌলিক সেবা পাননি। উন্নয়নবঞ্চিত এ পৌরসভা এখন চলছে ধুঁকে ধুঁকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো শহরের সড়কগুলো বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দিনের পর দিন সংস্কারের অভাবে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ।  

বড়লেখা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বারইগ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী নাজমুল হুসাইন বলেন, ‘পৌরসভার রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না। জলাবদ্ধতার ভোগান্তি আছে। এ পর্যন্ত নিজস্ব একটি ভবনই হয়নি।’

বড়লেখা পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা পৌরসভার ৬৫ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে পাকা রাস্তা হচ্ছে ৩২ কিলোমিটার এবং কাঁচা ৩৩ কিলোমিটার। ২২ কিলোমিটার ড্রেনের মধ্যে মাত্র ২ কিলোমিটার হচ্ছে পাকা। বাকি ২০ কিলোমিটার ড্রেনই কাঁচা। জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৩৫।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ. আব্দুল খালিক বলেন, ‘জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে কোনোরকম পৌরসভার কাজ চালানো হচ্ছে। পৌর পরিষদ বিভিন্ন সময় জায়গা ঠিক করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠায়। কিন্তু জায়গার মালিকরা কি করে যেন খবর পেয়ে যান। তারা উপরে তদ্বির শুরু করেন। এরপর ভবন নির্মাণের উদ্যোগটা বন্ধ হয়ে যায়।’

বড়লেখা পৌরসভার দুবারের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আলী আহমদ চৌধুরী জাহেদ সম্প্রতি বলেন, ‘জায়গা সমস্যায় এখনো আমাদের নিজস্ব ভবন হতে পারেনি। স্থায়ী ভবন না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত