রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর

১৭ নভেম্বর, ২০২২ ২১:৪২

সোনালী আমনে স্বপ্ন বুনছে জগন্নাথপুরের কৃষক

ধানে ধানে ভরে উঠেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিস্তির্ণ মাঠ। ফিকে হয়ে যাওয়া প্রান্তিক কৃষকদের স্বপ্নগুলো ফের পেতে শুরু করেছে রঙের ছোঁয়া।

বৃহস্পতিবার  (১৭ নবেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ফসলের মাঠে এখন সোনালী স্বপ্নের ছড়াছড়ি। পাকা ধানের উপস্থিতিতে কৃষকের মনে লেগেছে আনন্দের ঢেউ। বাতাসে ভাসছে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ।

ইতোমধ্যেই জগন্নাথপুরে কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছেন। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরাও খুশী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়র সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধানের মূল্য নিয়ে কিছুটা শংকায় রয়েছেন তারা। ধানের ন্যায্য মূল্য পেতে সরকারি ভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান কেনার দাবী উঠেছে।

জগন্নাথপুর  উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের এ বছর  ৯৫৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে।মাত্রর ধান কাটা শুরু হয়েছে, তাই বাজার দরের বিষয়ে  কিছু বলা যাবে না।
 
উপজেলার  মিরপুর ইউনিয়নের মধ্যম বড়কাপন  এলাকার কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, আমনের ভালো ফলন হয়েছে এবার।  বাজারে এখনো ধানের দাম ভালই। পুরো মৌসুম আসা পর্যন্ত মূল্য না কমলে ঋণগ্রস্থ অনেক কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে ।
উপজেলার আদূয়া গ্রামের কৃষক আমিনুল হক বলেন, ইঁদুরে এই মৌসুমে অনেক ধান গাছ কেটে ফেলেছে। ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে উৎপাদন খরচ উঠবে না। কৃষকরা যাতে প্রকৃত মূল্য পায় সেজন্য সরকারীভাবে সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান কেনার পাশাপাশি বাজার তদারকির দাবী জানান তিনি।

দক্ষিণ লুদরপুর এলাকার কৃষক এরশাদ উল্লাহ বলেন, আমি প্রায় এক একর জমিতে আমন ধান করেছি। ইঁদুর অনেক ধান গাছ কেটে ফেলেছে। আমার খরচ হয়েছে ২৩-২৫ হাজার টাকা। ধানের ফলন ভালো হয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত উসমান মজুমদার বলেন, এবার আমনের ফলন খুব ভাল হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত বছরের চেয়ে এবছর চাষাবাদও হয়েছে বেশী। ফাঁকে ফাঁকে হালকা বৃষ্টিপাত হওয়ায় ক্ষতিকর পোকা মাকড়ের উপদ্রব ছিলোনা। এতে করে ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আমরা আশা করছি আমন আবাদের মতো ফলনেও এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে। আবার কৃষকদের জন্য সরকারও ন্যায্য দামে আমন সংগ্রহ করবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত