রায়হান উদ্দিন সুমন, বানিয়াচং

২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:৫৬

বানিয়াচংয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়েই পরীক্ষা দিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রতীকী ছবি

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে যখন পরীক্ষার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে, ঠিক তখনই বানিয়াচং উপজেলায় প্রতি একঘণ্টা পরপর করা হয়েছে লোডশেডিং। দিনের অনেকটা সময় এবং বিশেষ করে রাতের বেলায়ও পড়ার টেবিলে বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চরমভাবে ব্যাহত করেছে। একদিকে পরীক্ষার চাপ, অন্যদিকে অসহ্য গরমের কারণে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় শঙ্কার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরীক্ষার হলের পরিবেশ।

সরেজমিনে একটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, পরীক্ষার আড়াই বা তিন ঘণ্টা সময়ের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। পরীক্ষার হলে ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলে অসহ্য গরমে ঘামতে ঘামতে উত্তর লিখতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কলম ধরতে অসুবিধা হওয়া এবং ঘামে খাতা ভিজে যাওয়ার মতো সমস্যায় তাদের মনোযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে হলের ভেতরের গুমোট পরিবেশে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করছে। এক অভিভাবক বলেন, পরীক্ষার হলের ভেতরে গরমে যদি বাচ্চার মাথা ঘোরে বা মনোযোগ নষ্ট হয় তবে এর দায় কে নেবে?

সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছেন তারা। অভিভাবকদের অভিযোগ, পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার সরকারি আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আমরা চাই অন্তত পরীক্ষার এই কয়েকটা দিন যেন আমাদের সন্তানরা শান্তিতে পরীক্ষা দিতে পারে সেই ব্যবস্থা যেন কর্তৃপক্ষ করেন।

পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো পরীক্ষার ঠিক আগের কয়েক দিন ও রাতের সময়টুকু। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যার পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মোমবাতি বা কুপির আলোয় পড়াশোনা করতে বাধ্য হয়েছেন শতশত শিক্ষার্থী। এই স্বল্প আলোয় দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা করায় চোখে ব্যথা ও মাথাব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

অপর এক অভিভাবক বলেন, আধুনিক শিক্ষার অনেক কিছুই এখন অনলাইন উপকরণ বা ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল। ল্যাপটপ বা মোবাইলে চার্জ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী শেষ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ লেকচার বা সাজেশন দেখতে পারছে না বিদ্যুৎ না থাকায়। এই যান্ত্রিক সমস্যার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন পড়াশোনার পরিবেশ না থাকায় তাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক অস্থিরতা ও ভয় কাজ করছে, যা পরীক্ষার ফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বানিয়াচং এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থী সোহান আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, মোমবাতির আলোয় রিভিশন দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পরীক্ষার দিন যদি বিদ্যুৎ না থাকে, তবে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ব।

পরীক্ষার্থী তাহেরা খানম বলেন, এই পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম বড় কোনো বাধা অতিক্রমের সিঁড়ি। এই সময়ে বিদ্যুতের এই করুণ দশা আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে পানি ঢেলে দিতে পারে।

ঝুমুর খানম বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত পদক্ষেপই পারে সকল পরীক্ষার্থীদের এই লোডশেডিং থেকে মুক্তি দিতে।

বিদ্যুৎ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত