নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৪০

সমাবেশে যোগ দিতে ট্রেনে করে সিলেটে বিএনপি নেতা-কর্মীরা

সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সমাবেশে যোগ দিতে ট্রেনে করে সিলেট পৌঁছচ্ছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এতে ট্রেনে যাত্রীর চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৭টায় সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্ৰাম থেকে আসা পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ট্রেন থেকে নেমে স্লোগান দিয়ে মিছিল করে তারা সমাবেশস্থলে আসেন।

গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিশেষ অতিথি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান। দলের মহাসচিব কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শুক্রবার রাতে গণসমাবেশস্থলে এসে পৌঁছেছেন।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার নুরুল হক বলেন, দুই দিন ধরে পরিবহন ধর্মঘট‌ চলছে। এ কারণে ট্রেনের টিকিটের চাপ বেড়েছে। স্টেশনেও যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে।

সরেজমিনে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভিড়। ট্রেনের বগিগুলো নেতাকর্মীতে ঠাসা। সবাই স্লোগান দিচ্ছেন। স্টেশন থেকে বের হয়ে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে তারা সিলেট আলিয়া মাদরাসার মাঠের দিকে যাচ্ছেন।

ট্রেনে করে হবিগঞ্জ থেকে এসেছেন মালেক মিয়া বলেন, সরকার ইচ্ছে করে গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে‌। আমরা ট্রেনে করে এসেছি। আমাদের জেলার অনেক নেতাকর্মী গতকাল এসেছেন। আজ সকালে আমরা এসেছি।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার নানাভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যত বাধা আসুক, আমরা দমব না। সিলেটের সমাবেশ সফল হবেই।

এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ, শাহজিবাজার, নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্টেশন থেকে সিলেটগামী প্রতিটি ট্রেনে যাত্রা করছেন তারা। জেলার বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলে দলে ট্রেনে করে যাওয়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করছেন।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক কর্মী বলেন, ‘ধর্মঘট দিয়ে আমাদের আটকাতে পারবে না। সমাবেশস্থলে আমরা গিয়ে পৌঁছবোই।’

হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে গউছ বলেন, ‘বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে যেতে না পারার জন্যই পরিবহন ধর্মঘট। এ ধর্মঘট দিয়ে মানুষ আটকানো যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে, সিলেটের সমাবেশে যে পরিমাণ নেতা-কর্মী উপস্থিত হয়েছেন, এবার তার থেকেও বেশি সংখ্যক মানুষ জমায়েত হবেন। এখন শুধু নেতা-কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও যুক্ত হচ্ছেন।’

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক এম ইদ্রিস আলী বলেন, 'গতকাল নেতা-কর্মীসহ আমি ট্রেনে করেই সিলেট চলে গিয়েছি। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় অনেক বেশি ছিল। সরকার আমাদের সমাবেশ ঠেকাতে নানাভাবে চেষ্টা করছে। কিন্তু, কোনোভাবেই আমাদের ঠেকানো যাবে না।'

উল্লেখ্য, চাল-ডাল, জ্বালানি তেল, গ্যাস-বিদ্যুৎ, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, গুম খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে হত্যা'র প্রতিবাদ এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারে দাবিতে এ গণসমাবেশ আয়োজন করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে বিভাগে গণসমাবেশ করা হয়েছে।

সামনে আরও তিনটি গণসমাবেশ ও ঢাকায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি রয়েছে দলটির। এর মধ্যে আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী ও ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় এ কর্মসূচি রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত