বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৮:৩৭

নতুন প্রজন্মকে উৎসের সন্ধান করতে হবে: বিয়ানীবাজারে ড. সফিউদ্দিন

‘পুরোনা দিনের কথা ভুলবি কি রে হয়। ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়...’ এমনই হাসি-গান, কোলাহল, আড্ডা আর আনন্দ বেদনায় পুরোনা স্মৃতি রোমন্থনের মধ্য দিয়ে শনিবার (২৬ ডিনেম্বর) শুরু হওয়া বিয়ানীবাজারে খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যানিকেতনের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উৎসবের সমাপ্ত ঘটলো।

শনিবার সকাল ১১ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পুনর্মিলনীর শুরু হয়। শোভাযাত্রা শেষে জাতীয় পতাকার সঙ্গে স্কুলের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা ওড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বােধন ঘোষণা করেন বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন তিনি।

সমবেত নতুন ও পুরোনো শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় বিদ্যালয় চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে। বহুদিন পর পুরোনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন, বন্ধুকে জড়িয়ে ধরেন, আলাপচারিতা ও আড্ডায় মেতে ওঠেন অনেকে। বয়সকে পেছনে ফেলে ছবি তোলা, হইচই আর নেচে গেয়ে বাঁধভাঙা জোয়ারে ভেসে যান সবাই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হানাহানির ভয়ংকর চিত্র আমাদের ব্যথিত করে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন,  শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে মানুষের মতো মানুষ হবে; জ্ঞানের আলো জ্বালাবে। কোমলমতি এসব শিক্ষার্থীর এক হাতে থাকবে বই অন্য হাতে থাকবে হাতুড়ি। জরাজীর্ণ সমাজের কুসংস্কার ভেঙ্গে নতুন সমাজ বিনির্মানে শিক্ষার্থীরা কাজ করবে। 

তিনি আরো বলেন, শহীদ কি আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে জানতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সন্তানকে তার ঐতিহ্য জানতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে। তাকে অপরাজয় বাঙলা কী জানতে তাকে উৎসের সন্ধান করতে হবে। 

বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সফিকুল হক রিপনের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক আতাউর রহমানের পরিচালনায় সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুর রহমান চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস মাকসুদুল ইসলাম, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মালিক ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফজলুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মজির উদ্দিন আনছার, ভূমিদাতা সাইফুদ্দীন শফিক প্রমুখ। 

সভার মধ্যখানে স্মারক গ্রন্থ ‘নলয় ধ্বনি’র মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। রবিবার দুপুর পর্যন্ত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নাচ-গান ও আবৃতিসহ বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে দুই দিনের এ মিলন মেলার পরিসমাপ্তি ঘটে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত