২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:১৬
কানাইঘাট পূর্ব বাজারে গিয়ে কথা হয় ষাটোর্ধ বয়সী ব্যবসায়ী ময়না মিয়ার সাথে তিনি বলেন, ৮ জন প্রার্থী। বলা কঠিন কে নির্বাচিত হবেন। তবে নিজাম বাইছাব এবং ধানের শীষের মাঝেই লাড়াই হবে। আমি মনে করি নিজাম ভাইছাব বালা মানুষ। তিনি যোগ্য।
কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ফরিদ আহমদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমাদের প্রার্থী নিঃসন্দেহে জয়ী হবে।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন তাঁদের অযথা হয়রানি করছে। আওয়ামীলীগ এবং তাঁদের বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও প্রশাসন সেদিকে নজর না দিয়ে অযথা আমাদের নেতা কর্মীদের হয়রানি করছে।
তিনি আরো বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে ৩০ তারিখ আওয়ামী লীগের প্রতি অনাস্থা জানাবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক উপাধ্যক্ষ লোকমান হোসেন বলেন, আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হব ইনশাল্লাহ। আমাদের উপর মানুষের আস্থা আছে। মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো। ৩০ তারিখ সুষ্ঠু ভাবে ভোট গ্রহণ হবে বলে আমি আশা করছি।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর কানাইঘাট পৌরসভা নির্বাচনে মোট ১৬২৮৭ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ৯টি ভোট কেন্দ্র ও ৪৬টি ভোট কক্ষে ভোটগ্রহন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটারের মধ্যে ৮৩১১জন পুরুষ ভোটার ও ৭৯৭৬জন মহিলা ভোটার।
সোমবার ছিলো প্রচার প্রচারণার শেষ দিন। দিনভর জোরেশোরে প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা। সোমবার পুরো কানাইঘাট পৌর এলাকা ঘুরে কথা হয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে। তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন নিয়ে নিজেদের ভাবনা। প্রার্থীদের নিয়ে নিজেদের মূল্যায়নের কথাও জানিয়েছেন অকপটে।
স্থানীয় প্রবীণ তৈয়ব আলী বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। অতো রাজনীতি বুঝি না। তবে আমার মনে অয় হার্ড কম্পিটিশন অইব। যার কপালো জয় লেখা আছে তাইন জিতবো।
৫ নং বড় চতুল ইঊনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুবেশ্বর আলী (চাচাই) বলেন, আমি পৌরসভার ভোটার না। তবে বাজারে এসে দেখলাম নির্বাচনী পরিবেশ খুব ভালো। এখন পর্যন্ত কোন বিশৃঙ্খলা আমরা দেখি নি।
কানাইঘাট বাজারের সবজী ব্যবসায়ী ফয়সল আহমেদ বলেন, আমরা নাও ও ভোট দিমু। বাড়ির হখলেও দিবা। পরিস্থিতি খুব ভালা। আমরা চাই নাও জিতুক।
চা দোকানে বসে থাকা আজির উদ্দিন বলেন, এখনো বোঝা যাচ্ছে না কার অবস্থান ভালো। তবে গত বারের ইলেকশনের মত এবার না। প্রার্থী বেশি থাকায় হিসেব মিলেনো যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত দেখা যাক কি হয়।
তিনি আরো বলেন, তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি কাকে ভোট দেবেন।
চা স্টলে বসে থাকা দিন মজুর সায়েম আহমদ এবং হারিছ বলেন, আমারা দিন খাওয়া মানুষ। এত কিছু বুঝি না। যে ভালো তাকে ভোট দেব।
চিত্রশিল্পী, শিক্ষক ভানুলাল দাশ বলেন, আমরা নিজাম ভাইয়ের সাথে আছি। উনি সমাজসেবী শিক্ষিত ভালো মানুষ। মানুষ পরিবর্তন চায়। 'আমরা নৌকা নয় নৌকার মাঝির পরিবর্তন চাই।' বিগত দিন গুলোতে কোন উন্নয়ন হয় নি। আমরা চাই নতুন প্রার্থী এসে সরকারের উন্নয়ন কার্যে সহায়তা করুক। এলাকার উন্নয়ন করুক।
তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো। ৩০ তারিখ হিন্দু মুসলমান জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ভোট দিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী। এখানের অনেক কওমী হুজুররা আছেন, তাদের আস্থা নারিকেল গাছের প্রতিই।
তরুণ ভোটার জাহাঙ্গীর আলম সাজু বলেন, আমরা নতুন প্রজন্ম দেখে শুনে ভোট দেব। দেশের বিরোধিতাকারী কাউকে আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে চাই না।
আরেক তরুণ ভোটার আল মারুফ হোসেন বলেন, আমরা কাউন্সিলর নিয়ে কাজ করছি। উট পাখি মার্কা শাহবুদ্দিন নির্বাচিত হলে আমাদের ৯ নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন হবে ।
কানাইঘাট থানার এস আই তপন চন্দ্র রায় বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি।
কানাইঘাটে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আট জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফুর রহমান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন আল মিজান, বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহিম ভরসা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাবুল আহমদ, জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল আমিন, জাসদ সমর্থিত প্রার্থী তাজ উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা ইসলাম উদ্দিন ও জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ওলিউল্লাহ।
আপনার মন্তব্য