২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২২:৩০
সিলেটে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ। বিদ্রোহীদের কারণে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অনেক এলাকায়ও এবার দলটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। সিলেট বিভাগের অনন্ত পাঁচটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের চাইতে এগিয়ে আছেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
অপরদিকে, বিএনপির চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াত। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় কারণে জামায়াত দলীয় প্রতীকে অংশ নিতে না পারলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানারে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের নেতারা। জামায়াত আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় অনেক পৌরসভায়ই বিএনপির প্রার্থীদের বিপাকে পড়তে হবে। সিলেট বিভাগের অনন্ত দু’টি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীর বদলে জামায়াতের প্রার্থীই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন।
সিলেটের ১৬ পৌরসভার মধ্যে বাকীগুলোতে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যেই লড়াই হবে। তবে সুনামগঞ্জ সদরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েকদিন নির্বাচন হওয়া সিলেটের পৌরসভাগুলো ঘুরে ও সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম’র প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এমনটি জানা গেছে।
ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভোটের ক্ষেত্রে প্রতীক খুব প্রভাব ফেলবে না। ব্যক্তি ও পারিবারিক ইমেজ এবং উন্নয়ন দেখেই ভোট দেবেন তারা। দলের চাইতে গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। বেশিরভাগ পৌরসভায়ই এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীর সাথে জামায়াত, স্বতন্ত্র ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন।
সিলেটে লড়াই হবে ত্রিমূখী : সিলেট জেলার তিন পৌরসভায় নির্বাচন হবে। এর মধ্যে মেয়র পদে গোলাপগঞ্জে ৭ জন, কানাইঘাটে ৮ জন ও জকিগঞ্জে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গোলাপগঞ্জে মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল জব্বার ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাবেল। বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহীন।
দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে এবার বেশ বিপাকে পড়তে হবে গোলাপগঞ্জের দুইবারের নির্বাচিত মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু। যদিও এ উপজেলায় দলের চেয়ে গোষ্ঠিভিত্তিক লড়াইয়েই জয় পরাজয় নির্ধারিত হয় বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
এদিকে, অন্যান্য পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করলেও গোলাপগঞ্জের বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রে অনেকটাই নমনীয় আওয়ামী লীগ। এখন পর্যন্ত এই পৌরসভার দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি দলটি।
এই পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার কিছুটা এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। তার সাথে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলু ও বিএনপির গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহীনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে।
এই পৌরসভায় খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র একজন করে প্রার্থী লড়াই হবে মূলত তিন জনের মধ্যে।
জকিগঞ্জেও ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। এ উপজেলায়ও বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খলিল উদ্দিনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ। এই দুই প্রার্থীদের সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ নেতা মাওলানা হিফজুর রহমান। এই তিনজনের মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে বলে ধারণা ভোটারদের। এখানেও কিছুটা এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক।
কানাইঘাটেও আওয়ামী লীগের ঘরের শক্রু বিভিষন। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমানকে এবার বেশ বিপাকে পড়তে হবে বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজানের কারণে। আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী জটের কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্রের ব্যানারে প্রার্থী হওয়া জামায়াত নেতা অলিউল্লাহ। এ পৌরসভায় শেষ পর্যন্ত লুৎফুর, নিজাম ও অলিউল্লাহ’র মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগের গৃহদাহ : মৌলভীবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগ দুটি বলয়ে বিভক্ত। প্রয়াত সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ও সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের নামে গড়ে ওঠেছে দুটি বলয়। এই বিভক্তির খেসারত এবারের পৌর নির্বাচনে দিতে হতে পারে আওয়ামী লীগকে। মৌলভীবাজারে ৪ টি পৌরসভায় এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
মৌলভীবাজার সদর পৌরসভায় প্রধান দুই দলেই একক প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগের ফজলুর রহমান ও বিএনপির প্রার্থী ওলিউর রহমানের মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই বিদ্রোহীদের নিয়ে বিপাকে রয়েছে। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ দল থেকে জুয়েল আহমদকে মনোনয়ন দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জাকারিয়া হাবিব। অপরদিকে বিএনপি আবু ইব্রাহীম জমশেদকে মনোনয়ন দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন হাসিন আফরোজ। এই চারজন ছাড়াও কমলগঞ্জে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির রফিকুল ইসলাম, খেলাফত মজলিশের নজরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুক আহমদ।
তবে কমলগঞ্জে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
কুলাউড়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এ কে এম সফি আহমদ সালমান। তবে দলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন শফি আহমদ ইউনুস। একদল থেকে দু’জন প্রার্থী হওয়ায় এ পৌরসভায় এবার নৌকাকে বিপাকে পড়তে হতে পারে। আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর সুযোগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কামাল উদ্দিন আহমদ জুয়েল। কুলাউড়ায় মেয়র পদে আরো প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির মুহিবুর রহমান লাল। এ পৌরসভায়ও আয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী শফি কিছুটা এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।
বড়লেখা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহের সুযোগে সুবিধা নিতে পারে জামায়াত। দুই প্রধান দলের গৃহবিবাধের সুবিধা নিতে পারেন স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী হওয়া জামায়াত নেতা খিজির আহমদ।
বড়লেখায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল ইমাম কামরান ও বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন যথাক্রমে হাজী আব্দুন নুর ও মতিউর রহমান ইরাজ। এছাড়া এই পৌরসভায় জাতীয় পার্টির মীর মুজিব প্রার্থী হয়েছেন। বড়লেখায় জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর শক্ত লড়াই হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
হবিগঞ্জে দুর্গ রক্ষার সংগ্রামে আওয়ামী লীগ: হবিগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে এই দূর্গে হানা দিতে পারেন বিএনপির প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগে প্রার্থী জট, আভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে দলটি অনেকটাই বিপাকে রয়েছে। এবার হবিগঞ্জ জেলার ৫ টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পাঁচ পৌরসভার ২১ মেয়র প্রার্থী, ১৯২ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ৫৩ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
হবিগঞ্জ সদর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী জিকে গউছ ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতাউর রহমানের মধ্যে মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাবেক মেয়র গউছ বর্তমানে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাবন্দি আছেন। মেয়র পদ থেকে বহিস্কৃতও হয়েছেন। তবু এবারও প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিপাকে পড়তে হবে আওয়ামী লীগকে।
এ পৌরসভায় অন্যান্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল কাইয়ূম, পিপল্স পার্টির আব্দুল কাদির
নবীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে লড়াই করছেন ৫ জন। তবে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী ও বিএনপি’র ছাবির আহমেদ চৌধুরীর মধ্যে। এ পৌরসভায় বিদ্রোহ ঠেকতে পেরেছে দুই দলই। ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশা করছেন সংশ্লিস্টরা। নবীগঞ্জে মেয়র পদের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির মাহমুদ চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম রানা ও আব্দুল জোবায়ের।
চা বাগান বেষ্টিত চুনারুঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন মাত্র দু’জন। এতে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল ও বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন। তবে এ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চাইতে ব্যক্তি ইমেজ, উন্নয়ন ও সংখ্যালঘুদের প্রতি মনোভাব অনেক বেশি প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
মাধবপুর পৌরসভায়ও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দু’জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের হিরেন্দ্র লাল সাহা ও বিএনপি’র হাবিবুর রহমান মানিক লড়াই করছেন এখানে।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দুই প্রধান দল থেকেই একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থী আধিক্যের কারণে বিপাকে পড়েছে দুই দলই। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনিত মেয়র প্রার্থী মো. ছালেক মিয়া। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান মাসুক। অপরদিকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী, বর্তমান মেয়র ফরিদ আহমেদ অলি। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন হাজী আব্দুল মজিদ। এই পৌরসভায় অন্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী খালেদা আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রকিব ও জালাল উদ্দিন রুমী।
বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও ১৫ হাজার ১৯৭ ভোটারের এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
সুনামগঞ্জে দলের চেয়ে ব্যক্তি বড় : সুনামগঞ্জে চারটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে চারটি পৌরসভায়ই দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজই প্রধান্যপাবে বলে জানা গেছে। এ জেলায়ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে সমস্যায় রয়েছে আওয়ামী লীগ।
সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী হয়েছেন তিন জন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আইয়ুব বখত জগলুল, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেরগুল আহমদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র জগলুলের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী গণিউল সালাদিনের মূল লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
দেওয়ান গণিউল সালাদিন মরমী কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র এবং সুনামগঞ্জের প্রয়াত মেয়র মমিনুল মউজদীনের ছোট ভাই। সুনামগঞ্জ শহরে রয়েছে মউজদিনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা। মউজদিনের কারনে গণিউল আ্ওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জগন্নাথপুর পৌরসভায় আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুল মনাফ আর বিএনপি মনোনিত প্রার্থী রাজু আহমেদের লড়াই হবে। এ পৌরসভায় নুরুল করিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তিনি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসত পারবেন না বলে মত ভোটারদের।
দিরাই পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামীলীগের মোশারফ মিয়া, বিএনপির মঊন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, জাতীয় পার্টির রফিক সরদার ও জাসদের মনোনিত প্রার্থী মোজাম্মেল হক। মহাজোটের তিন শরীক দল আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় ও বিএনপির প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজের কারণে এ পৌরসভায় এগিয়ে আছে বিএনপি।
ছাতক পৌরসভায়ও অর্ন্তকোন্দলে পুড়ছে আওয়ামী লীগ। এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান আবুল কালাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াহিদুর রহমান মজনু, এ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী শামছুর রহমান শামছু।
এই পৌরসভায় দুই প্রার্থীর কারনে বিপাকে পরতে পারে আওয়ামী লীগ। তবে এখন পর্যন্ত আবুল কালাম এগিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
আপনার মন্তব্য