নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২৩:৩৯

লড়াইটা দুই সাংগঠনিক সম্পাদকেরও

এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় পরিচয়ে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজ, উন্নয়ন, স্থানীয় ইস্যু ছাপিয়ে আলোচ্য হয়ে উঠেছে দলীয় দলীয় পরিচয় ও প্রতীক। শীর্ষ দুটি রাজনৈতিক দলও পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে।

সিলেটে এবার ষোল পৌরসভায় নির্বাচন হবে। পুরো বিভাগে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি পৌরসভা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই সাংগঠনিক সম্পাদক। নিজেদের প্রার্থী জিতিয়ে আনতে দু'দলের কেন্দ্র থেকেও এই দুই নেতার উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচন কেবল প্রার্থীদের মধ্যেও সীমাবদ্ধ নেই। দুই সাংগঠনিক সম্পাদকেরও ভাবমূর্তি রক্ষার লড়াই হয়ে ওঠেছে। এই লড়াইয়ে যিনি বিজয়ী হবেন দলের হাইকমান্ডে বাড়বে তার মর্যাদা।

ফলে নিজেদের প্রার্থীকে বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন।

নৌকা আর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবার প্রথমবারের মতো পৌর নির্বাচনে লড়াই করছেন প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থীরা। ফলে এবারের নির্বাচন যতোটা স্থানীয়, তার চেয়ে অনেক বেশি দলীয় হয়ে ওঠেছে।

প্রার্থীর চেয়ে দলীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষার লড়াই হয়ে ওঠেছে এবারের পৌর নির্বাচন। আর সিলেট বিভাগ প্রতীকের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব পড়েছে দুই সাংগঠনিক সম্পাদকদের ওপর।

ফলে সিলেট বিভাগের ১৬ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ১৬ জন করে প্রার্থী অংশ নিলেও ৩০ নভেম্বর তাদের সঙ্গে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবেন দুই সাংগঠনিক সম্পাদকও।

ভোটারদের সামনে সাংগঠনিক সক্ষমতার পরীক্ষায় অবতীর্ণ এই দুই নেতা। তাই সিলেটসহ চার জেলার ষোল পৌরসভা চষে বেড়িয়েছেন এ দুই নেতা।

দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সিলেটে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন।

সাংগঠনিক হিসেবে এ দুই নেতা নিজেদের ‘প্রেস্টিজ ইস্যুর’ লড়াইয়ে প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ষোলটি পৌরসভা ঘুরে বেড়িয়েছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, সিলেটের সব ক’টি পৌরসভায় প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করে জনগণ প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জীবন বলেন, ষোল পৌরসভায় ১৬টি দলে বিভক্ত হয়ে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের লক্ষ্যে সোমবার পর্যন্ত তিনি মাঠে ছিলেন।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার মাধ্যমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে দেশপ্রেমিক জনতাকে শামিল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত