এস আলম সুমন,কুলাউড়া

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৬:২৫

কুলাউড়ায় বয়োবৃদ্ধসহ ভোটারদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে বয়োবৃদ্ধসহ ভোটারদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। সকাল আটটা থেকে  শুরু হয় ভোট গ্রহণ। পৌষের তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে ভোট দিতে সকালেই কেন্দ্রে ছুটে আসেন ভোটাররা। দুপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকজন  মেয়রসহ কাউন্সিলর প্রার্থী সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে জানান।

সরেজমিনে সকাল সাড়ে ৯টায় ঘন কুয়াশা ও শেিতর মধ্যে পৌরসভার ৫ নংওয়ার্ডের কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শতাধিক ভোটারকে লাইনে দাঁড়ানো দেখা যায়। এদের মধ্যে বৃদ্ধ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। ভোট দিতে আসা হোসনে আরা বেগম (৮০) বলেন, “জীবনে অনেক ভোট দিছি, এইবার হয়তো শেষ ভোটটি দিলাম”। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং আব্দুল আবদুল হাই বলেন, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৬৪ ভোটারদের মধ্যে ১০শতাংশ ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করেছে।



সকাল ৯টা ৪৫মিনিটে ৩ নং ওয়ার্ডের রাবেয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আতিকুর রহমান জানান, ১ হাজার ৮৮২ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯.৪৫ শতাংশের ভোট গ্রহণ করা হয়ে গেছে।

সকাল ১০টায়  ১ নং ওয়ার্ডের ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মিনার আলী তাঁর পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা দুলবি বিবিকে (৮০) কোলে করে ভোট দিতে নিয়ে এসেছেন। অসুস্থ অবস্থায় ভোট দিতে ছুটে আসার কারণ জানতে চাইলে দুলবি হেসে বলেন, দেশর লাগি ভোটর দাম আছে, অতার লাগি (এজন্য) ভোটটা দিলাম ।’ নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু বলে মন্তব্য করেন, ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ফয়জুর রহমান ও লোকমান আলী। প্রিজাইডিং অফিসার এম এম শাহ নেওয়াজ বলেন, ১ হাজার ৬৭৯ ভোটের মধ্যে ৩০২ ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১০টায় ৪ নং ওয়ার্ডের সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা বেশ কম দেখা যায়। তবে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও র‌্যাবের (র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) বেশ তৎপরতা ছিল। কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা কয়েকজন ভোটার বলেন, ‘পরিবেশ ভালো, বেলা বাড়লে সব ভোটাররাও আসবে।’ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, এ কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৬৬৭ জন। ২৭৬ টি গ্রহণ করা  হয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে ৮ নংওয়ার্ডের নবীন চন্দ্র মডেল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন। ভোটার রাহেলা বেগমকে পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে কোলে নিয়ে লাইনের মাঝখানে বসে থাকতে দেখা যায়। রাহেলা বলেন, ‘এক ঘন্টা ধরি দাঁড়াই আছি। এখনো ভোট দিতাম পারছি না।’ এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সাইফুদ্দিন আহমদ জানান, ২ হাজার ২৩৮ ভোটের মধ্যে ২০ শতাংশ গ্রহণ হয়ে গেছে।

বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ৯নং ওয়ার্ডের লস্করপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায় সেখানেও পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি । লাইনে দাঁড়ানো নারী ভোটার রুজিনা বেগম বলেন, এলাকার উন্নয়ন যে করতা পারবা, তারেই দিমু।’ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, ১ হাজার ৪৩২ ভোটের মধ্যে ৫৫০ গ্রহণ করা হয়েছে।
দুপুর ১২টায় ৭নং ওয়ার্ডের আমীর-ছলফু প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। লাইনের শেষ প্রান্তে দাঁড়ানো ভোটার পার্বতী দাস বলেন, ‘ভোট তো নাগরিক দায়িত্ব। সময় লাগলেও দিয়া যাইমু।’ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শরীফ উল ইসলাম বলেন, ৩ হাজার ২৩১ ভোটের মধ্যে ৫০শতাংশ ভোট কাস্ট হয়ে গেছে।

দুপুর সাড়ে  ১২টায় ৬ নং ওয়ার্ডের জয়পাশা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের উপস্থিতি ভালো। তবে স্থানীয়রা জানান বাইরে এ কেন্দ্রের বাইরে কিছু বহিরাগতদের আগমনে সেখানকার পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনা পূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. আনোয়ার জানান, কেন্দ্র পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২ হাজার ২৮৩ ভোটের মধ্যে ৮২৫ গ্রহণ করা হয়ে গেছে।

দুপুর ২টায় ২নং ওয়ার্ডের কুলাউড়া বন্যা শিবির কেন্দ্রে প্রথমবারের মত ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থী মনি বলেন, “জীবনে প্রথম ভোট দিলাম খুব ভালো লাগছে, তাও আবার দলীয় প্রতীকে”। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবদুল মতলিব বলেন, ১ হাজার ৯২৪ ভোটের মধ্যে ৯০০জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত