৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৭:৩৮
মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আতঙ্ক ছড়াতে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর ছোট ভাইকে পুলিশ আটকে রেখেছে। পুলিশি অভিযান আর ধরপাকড়ের ভয়ে মঙ্গলবার রাত থেকেই কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বিএনপি’র নেতাকর্মীরা প্রায় মাঠ ছাড়াই রয়েছেন।
সকাল থেকেই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও জনপ্রতিনিধিরা ৯টি কেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান করে নৌকা প্রতিকে ভোট প্রদানে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি মেয়র প্রার্থীকে ভোট কেন্দ্র থেকে পুলিশ বের করে দিয়েছিল।
বুধবার সকাল সোয়া ৮ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার ৯টি ভোট কেন্দ্র ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সবকটি ভোট কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও পুরুষ ভোটারদের উপস্থিত ছিল কম। তবে আ’লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ভিড়ে সবকটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। বিএনপি প্রার্থীর নেতাকর্মীদের কোথাও বের হতে দেখা যায়নি।
সকাল পৌনে ১১টায় করিমপুর ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী হাছিন আফরোজ চৌধুরীকে দায়িত্বরত এএসআই জাকারিয়া জোরপূর্বক বের করে দেন। একই সময়ে উপজেলা আ’লীগ নেতা রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বদরুল ঐ কেন্দ্রে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন।
বিএনপি’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই নেতা জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের বাড়িতে টাকা বিতরণের অভিযোগ তোলে তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। এখন পর্যন্ত তারা গ্রেফতার আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাছিন আফরোজ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, নিজেরা প্রার্থী হিসাবে ও জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হচ্ছেন। কেন্দ্রের ভিতরে বেশীক্ষণ অবস্থান করতে দেয়া হচ্ছে না এবং তাদের কর্মী সমর্থকদেরও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধরপাকড় করা হচ্ছে। অথচ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অবাধে কেন্দ্রে প্রবেশ ও বের হচ্ছেন।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ অভিযোগ করে বলেন, একটি চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় তার ছোট ভাই জুনেদসহ বিএনপি’র দু,একজনকে পুলিশ আটকে রেখে আতংকের সৃষ্টি করেছে। ফলে তার সমর্থক ভোটাররা ভোট প্রদানে আসতে পারছে না।
কমলগঞ্জ উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাহী কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, কমলগঞ্জে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ম্যাজিষ্ট্যাটের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল ছিল। করিমপুর ভোটকেন্দ্রে আ’লীগের একজন জনপ্রতিনিধির প্রবেশ বিষয়ে তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দু’একজনকে থানায় বসিয়ে রাখা হয় পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে।
আপনার মন্তব্য