২৮ মার্চ, ২০২৩ ১৮:২০
সুনামগঞ্জের পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের ভমবমি বাজার সংলগ্ন বেইলি সেতুর পশ্চিম (সুনামগঞ্জ) অংশের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে ৭ ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো। সড়ক ও জনপথের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ৭ ঘন্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ার পর বন্ধ হয় যান চলাচল। দীর্ঘসময় ধরে সংস্কার কাজ করায় বিকাল ৪টার দিকে স্বাভাবিক হয় যানচলাচল।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভমবমি বাজার সংলগ্ন সেতুটির ভেঙে যাওয়া পাটাতন তুলে আগের জায়গায় বসিয়ে রেখেছে সড়ক ও জনপথের লোকজন। তখনো ওয়েল্ডিং-এর কাজ শুরু হয় নি। যান চলাচল বন্ধ। সেতুর উভয়পাশে ভারী ভারী ট্রাক, লড়ি, যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি, লেগুনাসহ কয়েকশ যানবাহন আটকে আছে। যাত্রীরা প্রচণ্ড দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে হেঁটে সেতু পার হচ্ছেন। কারো কোলে ছোট্ট শিশু, কারো মাথায় বোঝা, কারো হাতে ব্যাগ আবার কেউ ধরে ধরে পার করছে হাসপাতালগামী রোগী। এ ঘটনায় সীমাহীন দুর্ভোগে পরতে হয়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ট্রাক চালকদের।
স্থানীয়রা জানান, এ সড়কে ভমবমির বেইলি সেতুটি বর্তমান সময়ের জন্য গলার কাটা। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি কয়েকদিন পর পর ভেঙে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। দূর্ঘটনা ঘটে। প্রস্থে একেবারে কম এ সেতু দিয়ে দূরপাল্লার বাস পারাপারের সময় দূর্ঘটনা ঘটে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকদিন পর পর পাটাতন ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে এলাকারও বদনাম হচ্ছে। বেইলি সেতু ভেঙে নতুন পাঁকা সেতু করার দাবি জানান এলাকাবাসী।
ভমবমী বাজার এলাকার বাসিন্দা রিপন আহমদ বলেন, সকালে হঠাৎ করে সেতুর দুটি পাটাতন নিচের দিকে দেবে যায়। ফলে বড় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। প্রায়ই পাটাতন দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভারি কোনো যান পার হওয়ার ফলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
ট্রাক চালক কাউছার আহমদ, সিএনজি চালক কয়েছ মিয়া ও যাত্রী উজ্জল সারোয়ার বলেন, এ রাস্তা দিয়ে দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। ভারী ভারী যানবাহন পণ্য বহণ করে। রাণীগঞ্জ সেতু হওয়ার পর সব মিলিয়ে রাস্তাটির গুরুত্ব বেড়েছে। যদি এই সেতুটি বড় সেতুতে রূপান্তর না করা হয় তাহলে কোনোভাবেই রাণীগঞ্জ সেতুর সুফল আমরা ভোগ করতে পারবো না।
সুনামগঞ্জ সড়ক জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম প্রামাণিক বলেন, সেতুর তিনটি পাটাতন নদীতে পড়ে গেছে। সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত যানচলাচর বন্ধ ছিলো। এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
আপনার মন্তব্য