০৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৯:২১
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের ব্যবহৃত কৃষি জমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রচেষ্টার প্রতিবাদে শনিবার মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহাসমাবেশে হবিগঞ্জের প্রায় প্রতিটি বাগানের চা শ্রমিকরা ছাড়াও দেরে বিশিষ্টজনেরা ও সাধারণ মানুষেরা অংশ নেন। সমাবেশ থেকে যেকোনো মূল্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জের ২৪ বাগানে কর্মবিরতি দিয়ে শ্রমিকরা এই মহাসমাবেশে যোগ দেন। চুনারুঘাটের চানপুর চা বাগানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বাছাইকৃত ভূমিতে সকাল সাড়ে ১১ টায় এ সমাবেশ শুরু হয়ে বিকেল ৫ টায় শেষ হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক জনতা অংশ নেন।
চা শ্রমিক ইউনিয়ন লস্করপুর ভ্যালির সভাপতি অভিরথ বাপ্পীর সভাপতিত্বে ও চানপুর চা বাগান ভূমি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পালের সঞ্চালনায় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজলে হাসান বাদশা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্ধ প্রদানের জন্য এই ভূমিকে পতিত জমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এই জমিতে বছরে তিনটি ফসল হয়। ফসলি জমিকে পতিত জমি হিসেবে অপব্যাখ্যা দিয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। আমি আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই বিষয়টি উত্থাপন করবো। এবং এখানে যাতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করা না হয় সে ব্যাপারে প্রস্তাব করবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, চা শ্রমিকরা নিরীহ লোক। তাদের সরলতার সুযোগ নিয়েই তাদের জমি দখলের পায়তারা চলছে। এটি যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে।
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সকল নীতিমালা ভঙ্গ করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। কৃষি জমি দখল করে কেনো অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে। এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে চা বাগানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চা শিল্পকে ধ্বংস করে, একটি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হতে পারে না। এটি প্রতিহত করতে আমাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে।
মহাসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বজলুর রহমান, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি লাকী আক্তার প্রমুখ।
মহাসমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন বাগান থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা এসে যোগ দেন। হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড- ব্যানার নিয়ে কৃষিজমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রতিবাদ জানান তারা।
সমাবেশ শেষে চানপুর চা বাগান ভূমি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল জানান, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সফরে আসবেন। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী চাঁনপুর চা বাগানের জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘোষণা না দিলে ২৫ জানুয়ারি থেকে দেশের ১৬৪ চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করা হবে। এছাড়া চা বাগানের পার্শ্ববর্তী দেশের সকল সড়কে অবরোধ করা হবে।
আপনার মন্তব্য