নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২৩:৪৮

শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে এসে সম্পদ বেড়েছে মোমেনের

২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হলফনামায় নিজের পেশা ‘শিক্ষকতা ও অন্যান্য’ বলে উল্লেখ করেছিলেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সেই বার সিলেট-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

আবারও একই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোমেন। এবার হলফানামায় নিজের পেশা হিসেবে ‘রাজনীতি ও অন্যান্য’ উল্লেখ করেছেন তিনি। শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের এই পাঁচ বছরে অস্থাবর সম্পদ প্রায় দিগুণ হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। তবে এই সময়ে কমেছে তার আয়।

একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া দুটি হলফনামা ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আব্দুল মোমেনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ছিল ১ কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এবার তার ব্যাংকে আছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৭৯ লাখা টাকা। যা গত নির্বাচনের আগে ছিলো ২ কোটি ৮৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। পাঁচ বছরে তার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকার।

স্নাতকোত্তর পাস মোমেনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

হলফনামা অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্ষিক আয় এখন ২৬ লাখ টাকার কিছু বেশি, যা ২০১৮ সালে ছিল প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। বর্তমানে বাড়ি ও দোকানভাড়া থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা, পেশা থেকে প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের মুনাফা বাবদ প্রায় ৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।

মোমেনের বর্তমানে স্থাবর সম্পদ তেমন একটা বাড়েনি। এখন তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার। ২০১৮ সালে তা ছিল ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা মূল্যের।

এই পাঁচ বছরে মোমেনের স্ত্রী সেলিনা মোমেনের সম্পদ বাড়েনি। এবারও ২০১৮ সালের সমপরিমান ৮ লাখ টাকা অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।

সিলেট-১ আসনে এবার মোট সাতজন মনোনয়পত্র জমা দিয়েছিলেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে আব্দুল মোমেন। এরপরই রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তিনবারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

পেশায় আইনজীবী মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের বার্ষিক আয় প্রায় ১৭ লাখ টাকা। তার ২ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। আর স্ত্রীর রয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ। মিসবাহের স্থাবর সম্পদ আছে ৬৮ লাখ টাকার। তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের মধ্যে দোতলা একটি বাড়ি আছে। তবে মোমেনের কোনো ঋণ না থাকলেও মিসবাহের সাড়ে ৩৭ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ রয়েছে।

পেশায় মাদ্রাসা শিক্ষক ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী ফয়জুল হক কামিল পাস। তার বার্ষিক আয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ৬০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে। ফয়জুলের পাঁচ লাখ টাকার ব্যাংকঋণ আছে।

এই আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী মো. আবদুল হান্নান হলফনামায় নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ দাবি করেছেন। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার সোয়া দুই লাখ টাকা মূল্যের এবং তার স্ত্রীর তিন লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। হান্নানের স্থাবর সম্পদের মূল্য চার লাখ টাকা।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মোহাম্মদ সোহেল আহমদ চৌধুরী স্নাতকোত্তর পাস। নিজের পেশা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘সমাজসেবা’। তার কোনো আয় নেই বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়, তবে ৮০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত