দেবাশীষ দেবু

২১ জানুয়ারি, ২০১৬ ০১:০৪

স্বাগতম প্রধানমন্ত্রী

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, শীতের এই মেঘলা দিনে সিলেটে আপনাকে স্বাগতম।

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এই প্রথমবারের মতো সিলেট আসছেন আপনি। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেত্রীকে কাছে পেয়ে সিলেটবাসী উৎফুল্ল। পুরো সিলেট আজ উৎসবমুখর।

আপনি কেবল প্রধানমন্ত্রীই নয়, আপনি জাতির জনকের কন্যাও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সিলেটবাসীর অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। জাতির জনককে হত্যার পর, যখন সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেটীরা আপনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

ফলে আপনার সাথে সিলেটের মানুষের সম্পর্ক কেবল রাজনীতি আর ক্ষমতার নয়। বরং অনেকটা আবেগের, হৃদয়ের। এর ফলে আপনার প্রতি সিলেটবাসীর প্রত্যাশাও প্রচুর।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের ভোটাররাই মহাজোটের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছিলেন। ২০১৩ সালে বেশিরভাগ আসনে যদিও নির্বাচন হয়নি তবু ১৯ টি আসনেই মহাজোটের প্রার্থীই সাংসদ হয়েছেন।

এই অঞ্চলের জনগণ ভোটের মাধ্যমে আপনার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তাদের প্রত্যাশা পূরণের প্রতীক হিসেবে আপনাকে বেছে নিয়েছে।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আসার ঠিক আগের দিন সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে। মাঘ মাসের বৃষ্টি কৃষক ও ফসলের জন্য সুফল বয়ে আনে। খনার বচনে আছে, বর্ষে যদি মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্য দেশ'। আপনার আগমন লগ্নে সাফল্যের বার্তা নিয়ে এসেছে বৃষ্টি। এই সাফল্যে ঘিরে থাকুক আপনাকে; বাংলাদেশকে।

একইসঙ্গে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আপনার আগমনের ঠিক আগের দিন সিলেটে ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় ছাত্রলীগেরই এক কর্মী খুন হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই সিলেটে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘাত-সহিংসতা লেগেই আছে। ঘটেছে একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও। ছাত্রলীগের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে ধরা জরুরী হয়ে পড়েছে। নতুবা সরকারের ভাবমূর্তি তো সঙ্কটে পড়বেই, চড়া মাসুলও দিতে হতে পারে। সরকারকেই বেকায়দায় পড়তে হবে ছাত্রলীগের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, এর আগেরবার সিলেট এসে আপনি বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এইক্ষণে তার কয়েকটি বিনয়ের সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই। আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নীতের। যদিও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

প্রতিশ্রুতি ছিলো সিলেটে দুটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের। এরমধ্যে লাক্কাতুরায় একটি বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও অপরটি আটকে আছে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যেই। আলমপুরে অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী প্রায় তিন বছর আগেই এই বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করলেও এখনো নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি ছিলো আপনার। সেটি বাস্তবায়নেরও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আজ সিলেটে এসে আপনি বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরমধ্যে রয়েছে- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবন, আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স, জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, সিলেট এ.পি.বি.এন এর ব্যারাক ভবন, সিলেট জেলার ওসমানী নগর থানা ভবন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত হোস্টেল ভবন, ৩০ শয্যা বিশিষ্ট খাদিমপাড়া হাসপাতাল, এম.সি কলেজের মাঠের সীমানা প্রাচীর ও গেইট, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতালে রূপান্তর, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন।

এছাড়া ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন- সিলেট আউটার স্টেডিয়াম, খসরূপুর বাজার জিসি-পৈলানপুর-বালাগঞ্জ জিসি সড়ক উন্নয়ন, হরিপুর জিসি-গাছবাড়ী জিসি সড়ক উন্নয়ন (কানাইঘাট অংশ), মৈয়াখালী বাজার-আর এন্ড সুইচ (বারোহাল ইউপি অফিস) ভায়া হাটুবিল মাদ্রাসা সড়ক উন্নয়ন, নারী পুলিশ ডরমেটারী ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ, শাহ পরাণ থানা ভবন নির্মাণ, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা অফিস নির্মাণ, সিলেট বিভাগীয় ও জেলা এনএসআই কার্যালয় ভবন নির্মাণ, তামাবিল স্থলবন্দর নির্মাণ, হযরত গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ:) মাজার ৩ তলা ভিত্তি বিশিষ্ট মসজিদ, মহিলা এবাদতখানা ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিলেট বিভাগ এবং সিভিল সার্জন, সিলেট কার্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সিলেট, ইলেকট্রনিক সিটির।

এই প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য আপনাকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী।

আপনি আজ মদন মোহন কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এটি সিলেটের একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। সিলেটের শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম স্থান। এই কলেজটি সরকারীকরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও আজ অবধি এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের বইতে হচ্ছে বাড়তি বেতনের বোঝা। আজকে ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আপনি মদন মোহন কলেজকে সরকারীকরণের ঘোষণা দেবেন এমনটি প্রত্যাশা সকলের।

এছাড়া সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতের দাবিও দীর্ঘদিনের। প্রবাসীবহুল সিলেটবাসী সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতের দাবিও জানিয়ে আসছেন। এরকম রয়েছে আরো অসংখ্য দাবি। আপনি নিশ্চয়ই সকল দাবিদাওয়ার ব্যাপারে অবগত আছেন। তাই নতুন করে সেগুলো উত্থাপনের আবশ্যকতা নেই।

আজকে আপনার বক্তব্যে এসব দাবি দাওয়া বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রদান করবেন এমনটিই বিশ্বাস করে সিলেটবাসী।

সিলেটে আপনার সফর সফল ও সুন্দর হোক। সাতকরার স্বাদের মতো সিলেট সবসময় আপনার হৃদয়ে থাকুক। এমনটিই প্রত্যাশা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত