নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ জানুয়ারি, ২০১৬ ০১:১৬

কেনো গ্রেফতার হচ্ছে না ছাত্রলীগ কর্মী হাবিবের খুনিরা?

গত মঙ্গলবার সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আভ্যন্তরীন বিরোধে খুন হয়েছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী ছাত্র কাজি হাবিব। এ ঘটনায় ১১ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। হাবিবের উপর হামলার সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে পুলিশের কাছে। তবু খুনের ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কেনো গ্রেফতার হচ্ছে না কাজী হাবিবের খুনিরা? খুনিরা কী অধরাই থেকে যাবে?

হত্যাকান্ডের পরদিন গণমাধ্যমের কাছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বলেছিলেন, হাবিব ছাত্রলীগ কর্মী। তাঁর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠ বিচারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের এই আশ্বাসের পরও আসামীদের ধরতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাধার কারণে হাবিব হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রশাসনের একটি অংশও আসামীদের পশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার হাবিবের উপর হামলার পরই হামলাকারী হোসাইন মোহাম্মদ সাগর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার বাসায় যান। এই নেতার পশ্রয়েই সাগর এখনো অধরা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, রোববার মহানগর পুলিশের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন সিলেটের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। এই মতবিনিময় সভায় পুলিশের একাধিক শীর্ষ নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের পশ্রয়ের অভিযোগ তুলেন।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশও হাবিব হত্যায় 'সহযোগীতাকারী' শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আসামীদের রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরফলে এখন পর্যন্ত একজন আসামীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

তবে সিলট কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদ জানান, ছাত্রলীগ কর্মী কাজি হাবিবুর রহমান হাবিব হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চলছে। আসামীরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার সম্ভব হয়নি। তবে শীঘ্রই আসামীরা ধরা পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সোহেল বলেন, আসামীদের ধরতে পুলিশের দু’টি স্পেশাল টিম কাজ করছৈ।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী কাজি হাবিবুর রহমান হাবিবের উপর হামলা করে নিজ দলের নেতাকর্মীরা। গ্রুপ বদলের কারণেই ক্যাম্পাসের সামনে তার উপর হামলা করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ওই দিনই নগরীর একটি প্রাইভেট হাসাপতালে স্থানাস্তর করা হয় তাকে। পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাবিবের মৃত্যু হয়।

পরদিন বুধবার দুপুরে নিহত হাবিবের ভাই কাজি জাকির হোসেন বাদি হয়ে সিলেট কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১১জনকে আসামি করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন- মহানগর ছাত্রলীগ নেতা হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, ইলিয়াছ আহমদ পুনম, ইমরান খান, সুবায়ের আহমদ সুহেল, ময়নুল ইসলাম রুমেল, তুহিন আহমদ, নাহিদ, আওয়াল আহমদ সোহান, আশিক, সায়মন ও নয়ন।

এদিকে, গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজি হাবিবের উপর সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত সন্দেহে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে। বহিস্কৃতরা হলেন- হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, ইলিয়াছ আহমদ পুনম, ইমরান খান, ময়নুল ইসলাম রুমেল, বশির আহমদ তুহিন, নাহিদ, আওয়াল আহমদ সোহান, আশিক, সায়মন ও নয়নকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত