রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর

০৪ অক্টোবর, ২০২৪ ১৬:৩১

জগন্নাথপুরের নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা থামছেই না। সপ্তাহ ব্যবধানে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে।

অনেক দিন ধরেই উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ফার্মের মুরগির ডিম। এখন ডিমের দাম আরেকটু বেড়েছে। গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ টাকা বেড়েছে ডজনে। ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে ডিম। ‘গরিবের আমিষ’ বলা হলেও সীমিত আয়ের মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে এ পণ্য।

শুধু ডিম নয়, মধ্যবিত্তের পণ্য ফার্মের মুরগির দামও বাড়ছে নানা অজুহাতে। কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কমে এলেও টানা বৃষ্টির কারণে সেটাও এখন বাড়তির দিকে।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর বাজার, রসুলগঞ্জ বাজার, কেশবপুর বাজার, ভবের বাজার সৈয়দপুর বাজার,মিরপুর বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারগুলো শাক-সবজিতে ভরপুর। দোকানিরা কাঁচামরিচ, বেগুন, শসা, পটল, বরবটি, কচুর লতি, ঢ্যাঁড়শ, কাঁকরোল, পেঁপে, করলা, শিম, গাজর, মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পসরা সাজিয়েছে বসেছেন। তবে কোনটার দামই ভোক্তাসাধারণের নাগালে নেই।

বাজারে মান ভেদে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০, ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৬০, বরবটি ১০০ টাকা, মুলা ৫০, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০, ধুন্দুল ৮০ টাকা ও পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৩০, কাঁকরোল ৮০, গাজর ১২০, কচুরমুখী ৮০ থেকে ৯০ টাকা, টমেটো ১৬০, শিম ২২০-২৬০ টাকা ও শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাশাপাশি, প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ৬০, প্রতি পিস ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০, আলু কেজি প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ ও প্রতি পিস লাউয়ের জন্য গুনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সম্প্রতি বন্যায় ও টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত। এতে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বেড়েছে।

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের শর্ত শিথিল ও শুল্ক কমানোর পর দেশে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। আগে যে পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, তা এখন ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন দামে হতাশ ক্রেতারা। তারা বলছেন, সরকার বদলেছে, তবে বাজার সিন্ডিকেট একই আছে।

জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মশাহিদ মিয়া ভূঁইয়া বলেন, সরকার পতনের পর প্রশাসনের অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার বড় বড় সংস্কারের দিকেও এগুচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে অগ্নিমূল্যের বাজারে এখনো কোনো সংস্কার কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। অথচ এখানেই সংস্কারের প্রয়োজনটা অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত