১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫ ২০:৩৮
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ সমাপ্তি নিয়ে শঙ্কায় স্থানীয় কৃষকরা।
তারা বলছেন, এখনও কয়েকটি প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয় নি। এরমধ্যে যদি ঝড় বৃষ্টি হয়, তাহলে বাঁধের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা অসম্ভব হবে।
হাওরের কৃষকরা জানান, জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরের ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর প্রকল্পের কিছু কিছু অংশে এখনও মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয় নি। এসব প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে। তবে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, কাজ চলমান। হাওরে মাটি সংকটের কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। এদিকে কাজের তুলনায় এখন পর্যন্ত বরাদ্দকৃত অর্থ কম পাওয়ায় আর্থিক সংকটে আছেন পিআইসিরা। অনেকেই ধার কর্জ ও ঋন করে বাঁধের কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
হাওরের ৯ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি রুবেল মিয়া বলেন, হাওরে মাটি সংকটের কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। তিন, চার দিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। এ প্রকল্পে ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রথম কিস্তির মাত্র ৫ লাখ টাকা বিল পেয়েছি, অথচ ১৫ লাখ টাকার মতো কাজ করেছি। অর্থ সংকটের কারণে পিআইসিরা কষ্টে আছেন বলে তিনি জানান।
১৪ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ শেষ। এখন ড্রেসিংয়ের কাজ চলছে। কাজের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বিল পেয়েছি মাত্র ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যেই ১৮ থেকে ১৯ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে।তিনি বলেন, ঝড় বৃষ্টির ভয়ে অনেক পিআইসি ধার, কর্জ ও ঋণ করে বাঁধের কাজ করছেন। কারণ মেঘ বৃষ্টি হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সমস্যা হবে।
নলুয়া হাওরের কৃষক ছালিকুর রহমান বলেন, হাওরের কয়েকটি বাঁধের অনেক অংশে এখনও মাটি পড়েনি। বৃষ্টি শুরু হলে বিলম্বিত হবে কাজ। এজন্য নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। একারণে হাওরের ফসল নিয়ে অন্যবছরের মতো এবারও দুঃশ্চিতায় আছি আমরা।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার এ উপজেলায় ২৪ কিলোমিটার এলাকায় ৩৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ নম্বর প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কাজ শুরু হয়। এবছর অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান উপ সহকারী প্রকৌশলী সবুজ কুমার শীল বলেন, জগন্নাথপুরে এখন পর্যন্ত ৮৫ ভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। দুই তিনটি প্রকল্পের মাটির কাজ সামান্য বাকি রয়েছে। আশা করছি দুই, তিন দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এবার নির্দিষ্ট সময়েই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে আশা করছি। বাঁধের টাকা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পাওয়ায় এ সংকট আছে। তবে চলতি সপ্তাহে টাকা পাওয়া যেতে পারে, তখন অর্থ সংকট থাকবে না। বাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি আমরা তদারকি করছি। এখন পর্যন্ত কাজ সন্তোষজনক বলে তিনি জানান।
আপনার মন্তব্য