১৯ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫ ২১:৪৬
সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিবের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারিতাসহ নানা অভিযোগ এনে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সিলেটের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় সিলেট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে করেন সিলেটের পাঁচটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ আসাদুল্লাহ আল গালিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে বলেন, 'আন্দোলনের মাঠে আসাদুল্লাহ আল গালিবের নেতৃত্ব অনস্বীকার্য ছিল। নেতা হিসেবে তার সবার প্রতি যথেষ্ট সম্মান ছিল।
কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকেই তার অন্য রূপ প্রকাশ পায়। গালিব ভাইকে কল দিলে রিসিভ করেন না। তিনি প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের কোনো খোঁজখবর নেন না। আজ ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী তার ওপর তীব্র ক্ষিপ্ত, বিরক্ত। সিলেট জেলার কমিটিতে ত্যাগীদের ছাঁটাই করে ও ন্যূনতম সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত করাছে। গালিব ভাইয়ের সঙ্গে যারা লিয়াজোঁ করে চলবে, তাদেরই তিনি কমিটির পদ দিয়েছেন।'
গালিবের স্বৈরাচারী আচরণের বর্ণনা দিয়ে তারা বলেন, 'শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে নিজের চাওয়ার সমীচীন মনে করেননি তিনি। যে কোনো বিষয়ে ওনার কাছ থেকে সঠিক জবাবদিহিতা পাওয়া যায় না। আহত যারা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল। কিন্তু তাদের নিয়ে সিলেটে কাজ হয়নি। আমাদের নিয়মিত অভিযোগ শুনতে হয় আহতদের। আহতদের ভোগান্তি উনি নিয়তি বলে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি বিপিএলের আহতদের ও শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিটের কোনো জবাবদিহিতা পাওয়া যায়নি তার কাছ থেকে। তার বিরুদ্ধে কিছু চাঁদাবাজির অভিযোগ এসেছে, যা আমাদের সংগঠনকে বিতর্কিত করেছে। সমন্বয়ক পাওয়ার খাটিয়ে সিলেট রেড ক্রিসেন্ট চৌহাট্টা অফিসে উনি সহ-পরিচালক পদ নেন, যে পদ পূর্বে ছিল না। গালিবের কথায় বোঝা যায় সিলেটের সব প্রশাসনিক কাজ তিনি করতে পারবেন।'
সিলেটের কমিটি নিয়ে তারা আরও বলেন, 'তিনি এমন কমিটি দিলেন, যা দিয়ে সংগঠনের বারোটা বাজিয়ে দিলেন। কমিটির বেশিরভাগ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভুল এবং সিলেটের কমিটিতে ৭০ শতাংশ মৌলভীবাজার জেলা ইনক্লুড করা। এতেই বোঝা যায় দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা ও আমাদের প্রাইভেটিয়ান ফ্রন্ট লাইনে যারা ছিল, তাদেরকে সরাসরি ছাঁটাই করে দেন। ন্যূনতম সদস্যপদে প্রাইভেটের যে তিনজনকে রেখেছেন, তারাও পদত্যাগ করেছেন। মহানগর কমিটি মোটমুটি ছাত্রলীগে ঠাসা। প্রধান পোস্টে দিলোয়ার ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। এতেই বোঝা যায় তিনি ছাত্রলীগের পুনর্বাসন করছেন। এখন তাকে আর মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে? সুযোগ দিলে জবাবদিহিতা চাইলে তিনি তোয়াক্কাই করেন না, স্বৈরাচারী আচরণ করেন।
ফ্যাসিস্টের মতো কর্তৃত্ব আর কৃতিত্বের মানসিকতা তিনি ত্যাগ করতে চান না। সবশেষে সিলেটের মানুষ নির্ধারণ করবে নেতৃত্বে কাকে রাখবে কাকে রাখবে না। তবে আমরা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। আমরা প্রাইভেটিয়ানরা উনাকে নেতৃত্বে আর দেখতে চাই না। আমরা চাই সিলেটের প্রধান নেতৃত্বে স্থানীয় কেউ আসবে।'
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মহিদ হাসান শান্ত, মিফতাহুল হাসান মেহেদি, লিডিং ইউনিভার্সিটির মাহবুবুর রহমান শান্ত, দেওয়ান মাশফি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইমতিয়াজ শাফিন, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফর উদ্দিন, আল কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিব্বির আহমেদ, শাহাজুল ইসলামসহ অনেকে।
আপনার মন্তব্য