০৮ মার্চ, ২০২৫ ২০:৪৬
৮মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে বিকাল ৪টায় মালনীছড়া চা বাগানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ত্ব করেন সংগঠনের সিলেট জেলার সংগঠক ও চা শ্রমিক নেতা নমিতা রায় এবং পরিচালনা করেন বুশরা সুহেল।
সভায় বক্তব্য রাখেন, বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলা সাংগঠনিক কমিটির সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস, চা শ্রমিক রিপা বাউরী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার স্কুল বিষয়ক সম্পাদক পূর্ণিমা দাস, সুমাইয়া আক্তার সোমা প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, “আজ আমরা এমন এক সময় অন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করছি, যখন গোটা দেশে ভয়াবহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী, ছোট্ট শিশু, বৃদ্ধা কেউ আজ নিরাপদ নন। সরকার এই সব খুন,ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। উল্টো 'মব' সৃষ্টি করে ভুক্তভোগী নারীদের অনলাইন ও অফলাইনে হেনস্তাকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। জুলাই গনঅভ্যুত্থানে নারীদের বীরোচিত অংশগ্রহণের পর দেশে নারী নিপীড়নের এমন পরিবেশ কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
কর্মক্ষেত্রে এখনও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। গার্মেন্টস, চা শিল্পসহ দেশের বহু শিল্প সেক্টরে নারীরা প্রধান ভূমিকা পালন করলেও কর্মক্ষেত্রে শারিরীক, মানসিক নিপীড়ন করা হয়। সমকাজে সম মজুরি দেয়া হয় না। চা বাগানের সেকশনে নারীদের কোন আলাদা স্যানিটেশনের ব্যাবস্থা নেই। মাতৃত্বকালীন ছুটি মাত্র ৪মাস। বাগানগুলিতে নেই প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ, এমবিবিএস ডাক্তার। অথচ নারী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে অধিকার আদায় ও ভোটাধিকারের দাবিতে লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায়ই নারী দিবস সৃষ্টি হয়েছে।
১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত কমিউনিস্টদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাব করেন সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী ক্লারা জেটকিন। মহামতি লেনিনের উদ্যোগে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই থেকে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে বিশ্বের মুক্তিকামী শোষিত নারী তথা সমস্ত মুক্তিকামী জনগণ শ্রদ্ধাভরে পালন করে আসছে।
কিন্তু আজও সমাজে নারী—পুরুষের সমতা নিশ্চিত হয়নি। মজুরি, নিরাপত্তা, সম্পত্তিতে সম—অধিকারসহ সমাজের প্রায় সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার নারী। এখনও নাটক সিনেমা বিজ্ঞাপনে নারীদেহকে পণ্যরূপে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পনোর্গ্রাফী, মদ, জুয়ার ছড়াছড়ি। এই ভয়াবহতার শিকার সবাই, তবে নারীকেই তার মাশুল দিতে হয় বেশি। কারণ পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজব্যবস্থা । তাই নারীকে আজ অর্থনৈতিক ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা দুই ধরণের শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র এই লড়াইয়ে ৮ মার্চের সংগ্রামী ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে চায়। সে লড়াইয়ে সকলের অংশগ্রহণ নারীমুক্তির পথকে প্রসারিত করবে।”
আপনার মন্তব্য