০৭ মে, ২০২৫ ২০:৩৬
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসুদেব বাড়ি এলাকায় খোলা ময়লার ভাগাড় ও পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। এই সমস্যাগুলো বর্তমানে এলাকাবাসীর নিত্যদিনের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও তা নিয়ে কোন পদক্ষেপ দেখা যায় নি প্রশাসনের। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জগন্নাথপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলো ৬ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর। সাধারণ মানুষের আনাগোনা বেশি। তবে ওয়ার্ডটিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো কোন নেই, তেমনি জায়গায় জায়গায় রয়েছে ময়লার ভাগাড়। অসংখ্য পলিথিন, কাগজ, খাবারের উচ্ছিষ্টসহ নানা ধরনের ময়লার উটকো গন্ধ এলাকা জুড়ে। খালের পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় সব সময় রাস্তায় পচা পানি জমে থাকে। ময়লার স্তূপের ওপর কুকুর, শূকর, কাক ও বিভিন্ন ধরনের পাখি খাবার খাচ্ছে। দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করছেন পথচারীরা।
এছাড়া বৃষ্টি হলে হাঁটু পানি জমে থাকে, ফলে জনগণ চলাচল করতে পারেন না। এখানে সরকারি খালটি দখল করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে কিছু ভূমি খেকো। এই খালটি ৪৫ ফুট প্রশস্ত থাকলেও বাস্তবে অস্তিত্বহীন। উপজেলা প্রশাসন থেকে খাল পরিমাপ করা হয়, খাল চিহ্নিত করে লাল দাগ দেওয়া হয়, ৩৫/৪০ জন ভূমি দখলদারদের তালিকা করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ আর কোন পদক্ষেপ দেখা যায় নি। এতে সাধারণ জনগণের মুখে নানা প্রশ্ন উঠছে।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় খোলা ময়লার ভাগাড়ের কারণেও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় খোলা ময়লার ভাগাড়ের কারণে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে শিশু-বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অনেক পরিবার বাসাবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় দাস বলেন, এত দুর্গন্ধ যে ঘরে বসে খেতে পারি না। শ্বাসকষ্ট হয়, খাওয়ার সময় উটকো গন্ধে অস্থির হয়ে যাই।
আরেক বাসিন্দা মরিন্দ বলেন, ময়লাখোলার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব সারাবছর লেগেই থাকে। শীতকালে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
সুবল দেব নামের একজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এ অবস্থায় আমাদের এলাকায় কোনো আত্মীয়-স্বজনও আসতে চায় না।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খালটি একসময় ৪৫ ফুট প্রস্থ ছিল, বর্তমানে তা অবৈধ দখলের কারণে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। সরকারি খাল দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন খালটি জরিপ করে লাল চিহ্ন দিয়ে দখলদারদের তালিকা করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত বিষয়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা বিকলেশ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন, তবে খালটির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।
জগন্নাথপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াদ বিন ইব্রাহিম ভূঞা বলেন,আমি নিজে সরেজমিনে খালটি পরিদর্শন করেছি। খাল প্রায় দখল হয়ে গেছে। তবে অবৈধ দখলদারদের শনাক্ত করা হয়েছে, প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জগন্নাথপুর পৌরসভার উন্নীতকরণ হয় ১৯৯৯ সালে। তবুও এখনো নগর ব্যবস্থাপনার এমন দুরবস্থা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত খোলা ময়লার ভাগাড় অপসারণ ও খালের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক।
আপনার মন্তব্য