নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২৩:৪১

স্কলার্সহোম ‘আমার পুয়ারে বেইজ্জত করলো কেনে’, প্রশ্ন আজমানের মায়ের

সিলেটের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম’র শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়াল (১৯) এর মৃত্যুর ঘটনায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করেছেন তার মা। স্কলার্সহোমের শিক্ষকরা আজমান ও তার পরিবারের সাথে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ মায়ের।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্কলার্সহোম’র শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়াল (১৯)-এর মরদেহ নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আজমানের মৃত্যুর পর ফেসবুকভিত্তিক একটি সংবাদ মাধ্যমকে আজমানের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা আগের দিন গেছি। ভাইস প্রিন্সিপালে আমারে দূর দূর ছে ছে করছইন। কইছইন- তারে (আজমানকে) ঘুম পাতাইয়া থইতাম। সে কলেজে যায় না কেনে? কোন মা-বাপে কিতা ইচ্ছা করি স্কুল দেয় নানি? বাচ্চারে কিতা ঘুম পাতাইয়া রাখার লাগি স্কুলে দিছিনি?

তিনি বলেন, ‘আমি গেছি একদিন, আমার হাজবেন্ড গেছইন একদিন। আরেকদিন আমরা একলগে গেছি। স্কলার্সহোম কোন সায় দেননি। ঠি আছে, আমরা টিসি মানিয়া নিলাম। তারপরও তোমার আমার পুয়ারে ইলা বেইজ্জত করলায় কেনে?’

আজমানের মা বলেন, ‘জানি আমার পুয়া দুর্বল। কিন্তু আমরা পুয়ারে বকা দেইনি। টিসি দেওয়ায় ক্লাসিক কলেজে গিয়া কালকে মাতিয়া আইছে’।

কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘আমার পুয়ায় কেনে ইতা করলো, কিতা কইছে তারা (স্কলার্সহোম)? কিতা কইছে? ঠিক আছে, আমার পুয়া পড়াত দুর্বল, কিন্তু তারা কেনো এতো বেইজ্জত করলো। আমার সামনে বেইজ্জত করলো’।

আজমানের মা আরও বলেন, ‘আমার পুয়া গেছেগি। আমি পড়ালেখার দরকার নাই। আমার ঘরে আমি কোন বই চাই না।  সব বই নিয়া স্কলার্সহোমও ইটাইয়া ফালাও। আমার পুয়া ফিরত চাই। পড়ালেখা সবে ছাড়িদেও। পড়ালেখা আর দরকার নাই।

তিনি স্কলার্সহোম কতৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তোমরা দুর্বল বাইচ্চাইন লইয়া আলাদা মিটিং করলায় না কেনে? তারারে আলাদা লইয়া ক্লাস করলায় না কেনে?’

আজমান স্কলার্সহোমের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাসা নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়া এলাকায়। আজমান এইচএসসি’র প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় পাঁচ বিষয়ে ফেল করেছে বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়।

এদিকে, আজমানের মত্যুর খবরে ছড়িয়ে পড়লে স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার সহপাঠী ও ওই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এমনকি অনেক সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও স্কলার্সহোমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাকেদের সাথে খারাপ আচরণ, পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক না থাকা, শিক্ষার্থী খারাপ করলে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আজমানের দাফণ সম্পন্ন হয়।

তবে সব অভিযোগ ও আজমানের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কলার্সহোম’র শাহী ঈদগাহ শাখার অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল (অব.) মুনীর আহমেদ কাদেরীর সাথে আলাপ করে সিলেটটুডে।

আজমানের প্রসঙ্গে তিনি সিলেটটুডেকে বলেন, সে একাদশ শ্রেণির দুটি পরীক্ষা ও দ্বাদশ শ্রেণিতে এইচএসসির প্রি-টেস্ট- সবগুলো পরীক্ষায়ই সাত বিষয়ের মধ্যে ৫টিতেই ফেল করে। এছাড়া সে ক্লাসেও খুবই অনিয়মিত।

তিনি বলেন, ৩/৪ দিন আগে আজমানের বাবাকে কলেজে ডেকে এনে এসব তথ্য জানানো হয়। এবং বলা হয়- এভাবে সে টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে পারবে না। আপনি চাইলে তাকে অন্য কলেজে নিয়ে যেতে পারেন।

অধ্যক্ষ বলেন, এরপর আজমান বা তার পরিবারের কেউ আর কলেজে আসেননি। তাদের সাথে আমাদের আর কোন কথাও হয়নি। কাল (বুধবার) বিকেলে শুনি সে আত্মহত্যা করেছে। এটি খুবই দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমরাও তার বাসায় গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে শুনেছি, কালকে সে নাকি বাবার সাথে অন্য একটা কলেজে গিয়েছিলো। ওই কলেজ থেকে আসার পর বাসার নিজের রুমে ঢুকে পড়ে। এরপর তার মরদেহ পাওয়া যায়।

প্রি-টেস্টে অকৃতকার্য হলে ছাড়পত্র প্রদান করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কাউকে ছাড়পত্র দেইনা। সে এখতিয়ারও আমাদের নেই। এটি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদন করে। তবে খারাপ ছাত্রদের অভিভাবদের আমরা অনুরোধ করি- যেহেতু এখানে সে ভালো করতে পারছে না, তাই আপনারা চাইলে অন্য কলেজে নিয়ে যেতে পারেন।

এ ব্যাপারে আজমানের বাবা রাশেদ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত