নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ১৯:২২

ফের মিনিস্টার বাড়ি পরিদর্শনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ

সিলেটের শতবর্ষী ঐতিহাসিক স্থাপনা মিনিস্টার বাড়ি পরিদর্শন করেছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল।

বৃহস্পতিবার বিকালে নগরের পাঠানটুলা এলাকায় পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার মো. আবু সাইদ ইনাম তানভিরুল বলেন, আলোচিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পেশ করা হবে।

এসময় তিনি মিনিস্টার বাড়ির মালিকপক্ষকে বাড়ি ভাঙ্গার কাজ তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব গবেষক সহ বিশেষ প্রতিনিধি দল সিলেটের মিনিষ্টার বাড়ি সরেজমিনে পরিদর্শনে না আসা পর্যন্ত বাড়ি ভাঙ্গার কাজ স্থগিত থাকবে।

এর আগে, গত ২৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শতবর্ষী এই বাড়ি ভাঙ্গার কাজ বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়।

ঐতিহ্য সচেতন নাগরিকদের দাবিতে গত ২৪ অক্টোবর সিলেট নগরীর পাঠানটুলায় অবস্থিত এই বাড়ি পরিদর্শনে আসে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গবেষনা সহকারী মো.ওমর ফারুক। এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন্ধ রাখা হয় বাড়ি ভাঙ্গার কাজ।

আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ আব্দুল হামিদ এ বাড়িটি নির্মাণ করেন।তিনি ব্রিটিশ ভারতের আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। এরপর ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তার কারণেই এই বাড়িটি ‘মিনিস্টার বাড়ি’ নামে পরিচিত।

প্রায় ৮১ শতক ভবনের উপর এই বাড়িটি কবে নির্মিত হয়েছিলো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেউ কেউ বাড়িটির বয়স শতবর্ষ বলে জানিয়েছেন। তবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আব্দুল হামিদ ১৯৬৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, আব্দুল হামিদ ছিলেন তৎকালীন আসামের এমএলএ এবং বৃহত্তর আসামের শিক্ষামন্ত্রী। তিনি তৎকালীন বিধানসভার স্পিকারও ছিলেন। পরবর্তীতে দেশ ভাগের পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকারে শিক্ষামন্ত্রী ও বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

আব্দুল হামিদের বোন হাফিজা বানু ছিলেন আইনজীবি আবু আহমদ আব্দুল হাফিজের মা এবং বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবুল মোমেনের দাদী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত