বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

১২ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:০১

বাসিয়া নদীর তীরসহ সিলেটের কোথাও কোন অবৈধ স্থাপনা থাকবে না: বিশ্বনাথে ডিসি সারওয়ার

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম বলেছেন, বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষিতেই আমাদের সমৃদ্ধি। তাই সরকার এই খাতকে আধুনিকায়ন ও লাভজনক করতে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ কৃষি উন্নয়নের মধ্যেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিহিত রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন,বিশ্বনাথের বাসিয়া নদীর তীরসহ সিলেটের কোথাও কোন অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। 

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথের প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথাগুলো বলেন।

এসময় উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে গম, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনা বাদাম জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিসার বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুনন্দা রায়।

এরআগে দুপুর ১২টায় তিনি বিশ্বনাথ থানা পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুর দেড়টায় উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বনাথের বাসিয়া নদীর দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি দীর্ঘদিনের। এই বাসিয়া নদী তীর উচ্ছেদ করা হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে, বাসিয়া নদীর তীরসহ সিলেটের কোথাও কোন অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ সকল অবৈধ স্থাপনাই দখলমুক্ত করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, নানা অভিযোগ থাকলেও এখানে লোকবল সঙ্কট। পরিচ্ছন্নকর্মী না থাকায় ভাড়াটে লোক এনে চিকিৎসকরা হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেছেন। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও অনেক ঘাটতি আছে সেগুলোও পূরণ করার চেষ্টা করা হবে।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। এরপর উপজেলা ও থানা প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে তিনি উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন।

এসময় খাজাঞ্চী ইউনিয়নের বাওনপুর গ্রামের ভূমিহীন ফাহিমা বেগম (৭০) একই গ্রামের আমির আলী (৪২), দশঘর ইউনিয়নের দশঘর গ্রামের জুবের আহমদ (২৭) ও আনিকা রানী বিশ্বাসকে (ক্ষেতের) জমির দলিল প্রদান করেন।

তারপর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস পরিদর্শন করেন। এসময় মোহাম্মদ পুরের বাসিন্দা শায়েফ অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক শায়েফ আহমদ (৪০) ও দেওকলস নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শাফাহ ডেইরি ফার্মের মালিক তিশা বেগমকে (৩৮) পানির পাম্প, দুধ রাখার ক্যানসহ খামারে ব্যবহার উপযোগী সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়।

এসময় ইউএনও সুন্দা রায়, এসিল্যান্ড মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহিদ হোসেন, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আব্দুল মজিদ উজ্জ্বল, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) উজ্জ্বল কুমার অধিকারীসহ প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত