নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০১:১৫

আব্দুস সাত্তারের জমি নিয়ে বিরোধ: আদালতে শুনানি ছিল ১৯ আগস্ট

সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকা। ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে বাস করেন ব্যবসায়ী ও চেম্বার অব কমার্সের সদস্য আব্দুস আব্দুস সাত্তার (৯০) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬)। সাথে ছিলেন গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মহানগীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় এই তিনজনই একসাথে খুন হন। এই ঘটনায় একই দিন বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে বাবুল মিয়া নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসা থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র খোয়া গেছে। মেঝেতে একটি দলিলের কপিও পাওয়া গেছে। রিকাবীবাজারের একটি সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধ ও মামলার একটি ঝামেলা চলছিল বলে জানা গেছে। ওই মামলার একটি শুনানি আগামী ১৯ আগস্ট হওয়ার কথা ছিল।

এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহত আব্দুস সাত্তারের আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক। তিনি জানান, রিকাবীবাজারের পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জায়গা ও সেখানে ইম্পাস টাওয়ার নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। গির্জা সমিতির কাছ থেকে লিজ নিয়ে সেখানে বাসা ও স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন মো. আব্দুস সাত্তার। ২০২৩ সালে তিনি ওই সম্পত্তি নিয়ে স্বত্ব মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২১১/২৩। পরে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সিভিল রিভিশন মামলা করেন। ওই মামলায় আব্দুস সাত্তারকে বিবাদী করা হয়। মামলাটির নম্বর ৭০/২৩ এবং আগামী ১৯ আগস্ট শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল।

আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক আরও বলেন, প্রতিটি শুনানিতে আব্দুস সাত্তার আদালতে হাজিরা দিতেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও তিনি শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নিহতের পরিচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ধারণা, পরিকল্পিতভাবে আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের সঙ্গে আটক বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকালে তাহমিনার সঙ্গে দেখা করতেই ওই বাসায় যায় বাবুল। তাহমিনার সম্মতিতেই সে বাসায় প্রবেশ করে। একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। তাহমিনা তাতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ বাধে বলে পুলিশের কাছে বাবুল জানিয়েছে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাবুলের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছেন, ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। সে বাসার রংমিস্ত্রির কাজ করত, মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, ওই বাড়িতে কাজ করত। সে সুবাদে কাজের মেয়ে তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসাতে প্রবেশ করে। তাহমিনা তাকে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকায়। তারপর দরজা বন্ধ করে দেয়।’’

পুলিশ কমিশনার বলেন, পরে বাবুল গৃহকর্মীকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে।

তিনি বলেন, শব্দ পেয়ে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। পরে সে বারন্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।

জানা যায়, আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। একসময় তিনি কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত