১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০১:৩৯
ছবি: সংগৃহীত
গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ সংসদীয় আসনের মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। এরমধ্যে ছিল সিলেট বিভাগের মৌলবাজারের ৪টি আসনও। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে গৃহদাহ শুরু হয়েছে। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে চলছে সভা-সমাবেশ ও শোডাউন। এরিমধ্যে সে দাবিও জানানো হয়েছে দলের কেন্দ্রে।
প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর মৌলভীবাজার বিএনপির কোন নেতা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা না করলেও, তাদের কর্মী সমর্থকেরা রয়েছেন মাঠে। মনোনয়নবঞ্চিতদের অনুসারীরা বিভিন্ন আসনে পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি আসনে বিএনপির অন্তত ১২ সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তবে কেন্দ্র গত ৩ নভেম্বর মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে এম নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে মুজিবুর রহমানকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
এই চার আসনের মধ্যে কেবল সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমানকে নিয়ে প্রকাশ্যে কোন বিরোধিতা না থাকলেও, অন্যান্য আসনগুলোর চিত্র ভিন্ন।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর মাঝে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু প্রাথমিকভাবে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এ আসনের দুই উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতা ছয় ইউনিয়নভুক্ত জুড়ী উপজেলার অধিবাসী। মনোনয়নবঞ্চিত কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভাভুক্ত বড়লেখা এলাকার বাসিন্দা। বড়লেখা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ১১ হাজার ৬৬৮। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীর নিজ উপজেলা জুড়ীতে মোট ভোট এক লাখ ২২ হাজার ২৭২।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির নেতা ও আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এএনএম আবেদ রাজা, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকতুল ইসলাম শকু ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ড. সাইফুল ইসলাম। বিএনপি প্রার্থী হিসেবে শওকতুল ইসলাম শকুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলের পুরোটা সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন আবেদ রাজা। তার অনুসারীরা এ আসনে দলের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে ৯ নভেম্বর সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার একাধিকবারের মেয়র জেলা বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী। তাদের মধ্য থেকে মুজিবুর রহমানকে দলের প্রার্থী করা হয়েছে। এদিকে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন মহসিন মিয়া মধু।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহসিন মিয়া মধু বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পাই কিংবা না পাই, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছি, থাকব।’
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান। এ আসনে বিএনপি নেতাদের কারও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে। তবে নাসের রহমান এ পর্যন্ত জেলা কমিটির নেতাদের নিয়ে কোনো মতবিনিময় সভা না করায় অনেকে ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
আপনার মন্তব্য