সিলেটটুডে ডেস্ক

০৬ মে, ২০২৬ ২২:৪৭

শিশু ‘ধর্ষক’ মাদরাসা শিক্ষকের শাস্তি ও মাদ্রাসায় শিশু নিগ্রহ বন্ধের দাবিতে সিলেটে ‘নাগরিক বন্ধন’

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি ও মাদ্রাসায় শিশু নিগ্রহ বন্ধের দাবিতে সিলেটে ‘নাগরিকবন্ধন’ করেছে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন।

বুধবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই ‘নাগরিকবন্ধন’ চলাকালে সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষা আমাদের সমাজে অত্যন্ত সম্মানজনক একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে শিশুদের শেখানো হয় ইমান, আক্বিদা, নৈতিকতা এবং আল্লাহভীতি। একজন মাদরাসার শিক্ষক শুধু শিক্ষক নন—তিনি একজন পথপ্রদর্শক, একজন আদর্শ। কিন্তু যখন সেই পবিত্র দায়িত্বে থাকা কেউ নিজেই শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ভঙ্গ করে, তখন তা শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি পুরো সমাজের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।

সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের মুখ্য সচিব আব্দুল করিম কিমের সভাপতিত্বে ও সংস্কৃতিকর্মী এমএসএ মাসুম খানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালক সামসুল বাসিত শেরো, বাসদ সিলেট জেলা আহবায়ক আবু জাফর, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেবব্রত রায় দিপন, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক জান্নাত আরা খান পান্না,ঐতিহ্য সংরক্ষন পরিষদের রেজাউল কিবরিয়া লিমন, চারন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নাজিকুল ইসলাম রানা,বাসদ ( মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস, সংবাদকর্মী সন্দিপন শুভ, নাট্যকর্মী এখলাস আহমদ তন্ময়, নৃত্যশিল্পী শচিন চন্দ্র দীপঙ্করসহ প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, একজন নিষ্পাপ শিশুর প্রতি এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি ইসলাম, মানবতা এবং আইনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অপরাধ। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—এই ধরনের অপরাধীর কোনো পরিচয়, কোনো অবস্থান, কোনো পোশাক তাকে রক্ষা করতে পারে না।

বক্তারা বলেন, মাদরাসা হোক বা যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার আগে। অভিভাবক, প্রশাসন ও সমাজ—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব এই পরিবেশকে নিরাপদ রাখা। সুতরাং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এমন নিকৃষ্ট কাজ করার সাহস না পায়।

প্রসঙ্গত, নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

ভোর রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদ্রাসাতে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীও একই এলাকার বাসিন্দা। মেয়েটির মাকে ছেড়ে গেছে তার বাবা। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ওই মাদ্রাসা শিক্ষক। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটিতে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী ছাত্রী গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। তখন তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে ঘটনা। শিশুটি মাদ্রাসার শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানায়। এরপর শিশুটিকে নিয়ে মদন উপজেলার বেসরকারি মেডিকেলে এক গাইনি বিশেষজ্ঞকে দেখান। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত