১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২০:০৯
ভাটিবাংলার প্রানের উৎসব ধলমেলা শুরু হচ্ছে বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। যুগের তালে অনেক কিছু বদলালেও গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ধল মেলা। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ফাল্গুনের পহেলা বুধবার দিরাই উপজেলার কালনী নদীর পূর্বতীরে বসেছে ধলের মেলা। তবে মূল মেলা বুধবার হলেও এক/দুই দিন আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকা হতে ব্যবসায়ীরা এসে নানান ধরনের দোকানপাট খুলে বসতে দেখা যায়। বিগত কয়েক বছরধরে “ভেরাইটি শো”র নামে অশ্লীলতার ছোবল এবং প্রকাশ্য জোয়ার আসরের কারনে মেলার মূল ঐতিহ্য আজ বিলীন হওয়ার পথে।
স্থানীয়দের সাথে জানা যায়, বিগত দুই-আড়াইশত বছর পূর্বে ভাটিধল গ্রামের মাঠে পরমেশ্বরী শীলা দেখা যায়। মূলত ঐ শীলাকেই কেন্দ্র করে ফাল্গুনের পহেলা বুধবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ভেড়া বা মহিষ বলি দিয়ে পূজা করে থাকে। ধীরে ধীরে এই পূজার দিনকেই ধল মেলা নামে খ্যাতি পায়। উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ভাটিধল গ্রামের মাঠে গত ২/৩ দিনে নতুন সাজে সেজেছে। মেলায় পার্শবর্তী সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।
হাওরা অঞ্চলে ফাল্গুনের এসময়ে মানুষের হাতে কোন কাজ তাকে না, তাই কিছু বিনোদনের উদ্দেশ্যেই মানুষ এ মেলায় উপস্থিত হয়। তবে মেলায় এবছর এক শ্রেণীর অসাধু ধান্দাবাজরা মদ গাজা আর জুয়ার আসরের নামে অশ্লীলতার আয়োজন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে স্থানীয় গন্যমান্যদের সহযোগিতায় ধল গ্রামের যুব সমাজ ফুঁসে ওটেছে। তারা ধল বাজারসহ গ্রামের বিভিন্ন রাস্তায় গত দুই দিন বিক্ষাভ মিছিল করেছে।যেকোন মূল্যে অশ্লীলতা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
অন্যতায় মেলায় যেকোনো ধরনের অনাকাংখিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক তালুকদার ও সাবেক চেয়ারম্যান আকিকুর রেজা পুলিশ যুব সমাজের আন্দোলনে একাত্মতা পোষন করেছেন।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, ঐতিহ্যবাহী ধল মেলায় অশ্লীল নাচ গান ও জুয়ার আসর বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বিকেলে মেলার মাঠে গিয়ে, জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে নাচ গানের আসর বন্ধ করে দিয়েছি। পুনরায় যাতে এগুলি না বসে এজন্য উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি মনিটরিং কমিঠি গঠন করা হয়েছে, এ কমিঠি বিষয়টি নজরধারী করবে।
আপনার মন্তব্য