১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২১:৩২
দিরাইয়ে দুর্নীতির দায়ে ১০ বছর পূর্বে বরখাস্তকৃত এক প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহালের চেষ্টায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ নিয়ে যে কোন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের নোয়াগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার তালুকদারকে নিয়ে।
এ ব্যাপারে গত ৯ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসীর পক্ষে নোয়াগাঁও জয়পুর গ্রামের অনিল ভৌমিকের পুত্র অতুল ভৌমিক দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৬ নভেম্বর মাসে অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিদ্যালয়ের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার তালুকদারকে বহিষ্কার করেন নোয়াগাও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট কাগজপত্র প্রেরণ করলে, ২০০৭ সালের ১৩ জুন থেকে আশীষ কুমার তালুকদারের বহিষ্কারাদেশ কার্যকরি হয়। তখন থেকে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।বর্তমানে বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ হওয়ার পর থেকে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের যোগসাজশে চাকুরীতে পুনর্বহালের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক শিক্ষক আশীষ কুমার তালুকদারকে বিদ্যালয়ে আসার জন্যে বিভিন্ন কাগজপত্র জালিয়াতি করে শিক্ষা অফিসে দিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে উপস্থাপন করেন শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ জন শিক্ষকের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে উপজেলা শিক্ষা কিমিটিতে কাগজপত্র উপস্থাপন করেছি। ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি উদ্যেশ্যমুলক ও মিথ্যা।
এ ব্যাপারে বরখাস্তকৃত শিক্ষক আশীষ কুমার তালুকদার বলেন, মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে দুই বছর ও চেক আপের জন্য ৬ মাস ভারতে থাকাকালীন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উদ্যেশ্যমুলক।
দিরাই উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে দেওয়া হয়েছে, আমি অনুলিপি পেয়েছি।
আপনার মন্তব্য